আওয়ামীলীগ সরকার পতনে ইসলামী দলগুলো মধ্যে ১১ দলের একটি জোট হয়েছিলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়ের লক্ষ্যে মাঠ সরগরম ছিলো ১১ জোটের নেতাকর্মী ও মনোনয়নপ্রত্যাশিদের। যার প্রতিফলনে তফসিল ঘোষণার পরপরই সব ভেঙ্গে যায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে। আসন বন্টন সহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সমাঝোতা না হওয়ায় ১০ জোট নিয়ে মনোনয়ন ছাড়েন জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি সহ অন্যান্য দল। এতে ইসলামী আন্দোলন একক প্রার্থীতা নিয়ে মাঠে নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। যার কারণে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে জামায়াত-এসসিপি-খেলাফতের জোট প্রার্থী মিলিয়ে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পাচঁ প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৫১ হাজার ১৮৮ ভোট। যার হিসেবে জামায়াতের ইসলামী এক প্রার্থীর ভোট পাননি ইশা আন্দোলনের সকল প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মোঃ ইকবাল হোসাইন ভুইয়া ১লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত-খেলাফত মজলিস জোটের এবিএম সিরাজুল মামুন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট পান। সকল প্রার্থী মিলিয়ে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মোঃ ইমদাদুল্লাহ ৭ হাজার ১৮৬ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মাওলানা মোঃ হাবিবুল্লাহ ৫ হাজার ৩২৫ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গোলাম মসিহ ১৪ হাজার ২২৩ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মোঃ ইছমাঈল হোসেন কাউছার ১৬ হাজার ৭৪৬ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মাওলানা মোঃ মাছুম বিল্লাহ ৭ হাজার ৭০৮ ভোট পান। সকল প্রার্থী মিলিয়ে ৫১ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়েছেন।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী রাজপথে আন্দোলনের তুমুল সক্রিয় ছিলো জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরর মত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পুলিশী হামলা মামলা গ্রেপ্তার ও কারাগারে বন্দি থেকে আওয়ামীলীগ বিরোধী আন্দোলনের ছিলো সক্রিয়। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ বিরুদ্ধে রাজপথে মিছিল মিটিং ও জালাময়ী বক্তব্যে দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। যার কারণে জনগণের কাছে ইসলামী দল হিসেবে আলোচনা ছিলো এই সংগঠন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনের মধ্যে দুইজন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য পেলেও বাকিরা ছিলো অচিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতে জোট বহাল থাকলেও ভোটের সংখ্যা আরো পরিবর্তন হত।

































আপনার মতামত লিখুন :