News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

জামায়াতে ইসলামীর নজর এবার সিটি কর্পোরেশনে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম জামায়াতে ইসলামীর নজর এবার সিটি কর্পোরেশনে

নারায়ণগঞ্জে বেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক নতুন করে অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণে বেশ নজর কেড়েছে। তারা এই নির্বাচনে অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছেন।

এই সংসদ নির্বাচনের পর এবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে সর্বমহলেই আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন তাদের নিয়ে চলছে নানা আলাপ আলোচনা।

তারই ধারাবাহিতায় এবার তাদের নজর নারায়ণগগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে। ইতোমধ্যে তারা সাংগঠনিকভাবে আগে থেকেই কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছেন। এসকল কাউন্সিলর প্রার্থীরা এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে তাদের এখনও মেয়র পদে চূড়ান্ত করা হয়নি। কিন্তু চূড়ান্ত করা না হলেও মেয়র পদে কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন।

আলোচনায় থাকা মধ্যে দুইজন হলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদ ও মহানগর জামায়াতের ইসলাম আমীর আবদুল জব্বার। তারা দুইজনই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জনপ্রিয় অবস্থানে রয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদ এবারের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। সব মহলের তার গ্রহণযোগ্যতা ছিলো। জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন তিনি নির্বাচন করলে ফলাফল পরিপূর্ণভাবেই তাদের পক্ষে আসতো। আর তাকে সামনে রেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এগিয়ে যেতে যান।

পাশাপাশি মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বারও নারায়ণগঞ্জ-৪ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় বেশ জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। সেই রেশ এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের সফলতা এসেছে। সেই সফলতার সূত্র ধরে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে সামনে রেখে তারা আশাবাদী।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হবে তাকে নিয়েই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে লড়াই করবেন। সেই সাথে তারা প্রাণপণভাবে সেই লড়াইয়ে অবর্তীর্ণ হয়ে ফলাফল তাদের করে নিবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট হিসেবেও জামায়াত মেয়র পদে মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করে যাবেন। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম জনপ্রিয় অবস্থানে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় ছাড় দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে এবার তারা মেয়র পদের মনোনয়ন তাদের করে নেয়ার চেষ্টা করবেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

সেই সাথে তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন না বলেও নেতারা জানিয়েছেন। সময় আসলেই তারা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে তারা জনকল্যাণে সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির জয় ঘটেছে, একটিতে জামায়াতের ইসলামী জোটের শরীক দল এনসিপি চমক দেখিয়েছে। গত দেড় দশকে এবার নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত, ঘটেনি কোন সহিংসতা। শান্তিপূর্ণ এ ভোটের পরিবেশে বিএনপির জয় হলেও একটি বিষয় সামনে এসেছে সেটা হলো বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান ও জামায়াত সহ অন্য দলের প্রতি সমর্থন। সেটাও একেবারে গোপন।

জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী জামায়াতের ভোটের অবস্থান রীতিমত ঘাম ঝরিয়েছে। অথচ তারা যে সংখ্যক ভোট পেয়েছে সেরকম প্রচারণা তো ছিল নাই বরং কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এ পরিস্থিতি। সেই ধারাবাহিকতা সামনের নির্বাচনগুলোতেও জামায়াতে ইসলাম ধরে রাখবেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।

প্রসঙ্গত, ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর নারায়ণগঞ্জে অঘোষিত নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় সবশেষ ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এ দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ে দলের অনেক নেতা। নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয় দলটি। তবে জামায়াতে ইসলানের নেতাদের নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। যার ফলস্বরূপ নির্বাচনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী ভালো সফলতা দেখিয়েছেন।