নারায়ণগঞ্জে গত দুই সপ্তাহের বেশী সময়ে ধরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছিলো রাজনৈতিক অঙ্গন। যার সূত্রপাত শুরু হয় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচীতে হামলার মধ্য দিয়ে। একদিকে হামলার প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল। অন্যদিকে দলীয় প্রধানকে কটূক্তির প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসুচী।
এসব কর্মসূচীতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, স্লোগানে উত্তাপ উত্তেজনা তৈরী হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। বাড়ে উভয়পক্ষের সমালোচনা। একদিকে এনসিপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও স্লোগানের ঢালাও সমালোচনা করে এনসিপির নেতাকর্মীরা। এভাবেই পাল্টাপাল্টি অবস্থান চলতে থাকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।
এদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমিতেও সেই উত্তাপ লক্ষ্য করা যায়। এদিন বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তেজনা তৈরী করলেও এনসিপির নেতারা উত্তেজনা না তৈরী করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে দুই দলের উত্তেজনা ধামাচাপা পড়ে সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায়। দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সকলের মনোযোগ সরে যায় সেদিকে। তবে একই দিন কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় ছাত্রশক্তির দুই কর্মী আহত হবার ঘটনায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।
লম্বা সময় ধরে চলা এমন বিবাদপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। শনিবার (৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ এমপিকে সাথে নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চারজন বিএনপির এমপির সাথে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির এমপি তথা ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল আমিন।
মতবিনিময় সভার বক্তব্যে বিএনপিপন্থী এমপিরা এনসিপির এমপির প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ বজায় রেখে কথা বলেন। সেই সাথে আবদুল্লাহ আল আমিনকে অন্যদলের বলে মনে করেন না মন্তব্য করেন এমপি মান্নান। জবাবে আবদুল্লাহ আল আমিনও বলেন, সংসদে যেকোন কাজে আমি কালাম আংকেলের সহযোগীতা নেই। নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে সুপারিশ করতে গেলে আমি দিপু ভাইকে সাথে নিয়ে যাই। এভাবে আমি সবার সাথে মিলেই কাজ করি। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের কোন দ্বিমত নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চেম্বারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহ প্রশংসনীয়। কারণ এর মাধ্যমে যেমন গত কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। তেমনি কর্মীরা দেখেছে তাদের নেতাদের ভিন্ন দলের সাথে কতটা সুসম্পর্ক রয়েছে। যেটা প্রভাব ফেলবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনীতিতে। রাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখতে পারে ব্যবসায়ীরা। যারা স্মরণ করিয়ে দেয় দেশের অবদানে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা ও রাজনীতিবিদদের সঠিক নেতৃত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটাই আবারও প্রমাণিত হলো সকলের সামনে।



































আপনার মতামত লিখুন :