News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

৮ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম ৮ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প

দেড় দশকেও নোংরা শহরের তালিকা থেকে বের হতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। নগরবাসিকে বর্জ্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে ১০ বছর আগে দেশের প্রথম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের উদ্যোগ নেয় নাসিক কর্তৃপক্ষ । প্রকল্পটির জন্য ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করার পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরও করেছিল। যদিও ৮ বছরেও নেই কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি। বরং প্রকল্প এলাকা এখন বর্জ্যের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। তবে নাসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ নোংরা শহরের তালিকা থেকেও বাদ পড়বে বলেও তাদের প্রত্যাশা।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৫ মে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও বন্দরের কদমরসুল পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। তবে দীর্ঘ দেড় দশকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি ২৭টি ওয়ার্ডের ৭২.৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাসরত ২০ লক্ষাধিক অধিবাসীর। নাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেড় দশক ধরেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। যত্রতত্র প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে অনবরত ময়লা ফেলা হচ্ছে। শুধু গৃহস্থালি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরই নয় বিভিন্ন শিল্প কারখানা এমনকি ক্লিনিকাল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে সড়কের পাশে। এতে ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধি। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে একনেকে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জন্য ২৩.২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিডিবির সাথে নাসিকের সমঝোতা চুক্তিও হয়। অধিগ্রহণকৃত জায়গায় মাটি ভরাটের পরে চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন স্থানে শেড নির্মাণ করা হয়। গভীর নলকুপের পাম্পও বসানো হয়। ২০২২ সালে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে পিডিবি। চীনা প্রতিষ্ঠানটি ৬০০ টন বর্জ্য থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করলেও অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা অজুহাতে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ ৮ বছরেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে প্রকল্প এলাকাটি রূপ নিয়েছে ডাম্পিং প্রকল্পে। এখন সেখানে শুধু ময়লা ফেলা ছাড়া আর কোন কাজ হচ্ছেনা। নির্মিত বেশ কিছু শেড নষ্টের পাশাপাশি পাম্পও বিকল হয়ে গেছে। প্রতিদিন শহর এবং সিদ্ধিরগঞ্জের ১৮টি  ওয়ার্ডের থেকে ৩০টি ড্রাম ট্রাকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। সম্প্রতি বর্তমান সরকার প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেয়। কয়েকদিন আগে প্রকল্প এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন চীনা একটি প্রতিনিধি দল। 

নগরবাসীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন গঠনের দেড় দশক অতিবাহিত হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোন উন্নতি হয়নি। সড়কের পাশে ও খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার প্রবণতায় পরিবেশ দূষণ করে চলেছে। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি এসে ময়লা নিয়ে গেলেও তারা অনেকেই সড়কের পাশে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে। নাসিকের বিভিন্ন স্থান এখন অলিখিত ডাম্পিং পয়েন্ট। এসব স্থান দিয়ে হাটতে দুর্গন্ধে নাক চাপা দিয়ে হাটতে হয়। নগরবাসীর প্রত্যাশিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বিদ্যুৎই পাওয়া যাবে না বরং পরিবেশদূষণও কমবে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সকলের।

নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোন অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগে নিয়েছে। প্রকল্পের জন্য আরো ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ বাবদ ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩৩৮ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে। বাকি টাকা প্রদানের পর অধিগ্রহণ শেষে প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। এতে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এজন্য নাসিককে প্রতিদিন ৮০০ মে: টন বর্জ্য সরবরাহ করা লাগবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ নোংরা তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ নারায়ণগঞ্জেও কাজে লাগবে।