জুলাই-আগস্টে দুটি ঘটনায় রীতিমত নারায়ণগঞ্জকে আবারো সমালোচনা সৃষ্টি করা হয়েছে। যার ফলে জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে নারায়ণগঞ্জকে হাইলাইট করে প্রচারণা করা হয়েছে। এর পিছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
গত মাসে জুলাই শুরুতে জাতীয় পতাকার সবুজ ও লাল বৃত্তের অবয়ব ঠিক রেখে, তার ওপর আরবি অক্ষরে 'কালেমা শাহাদাত' লিখে বিকৃত পতাকা উড়ছিলো সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। এবার আগষ্টে শেষ সময়ে কালো রঙের লম্বা কুর্তা, পায়জামা ও টুপি পরে ‘আফগানি বেশে’ খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও তৈরি করা দুই তরুণের ভিডিও ভাইরাল হয়। এই নিয়ে আবারো নারায়ণগঞ্জকে সমালোচনা মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
২৮ আগষ্ট দেখা যায় ছবি সম্বলিত সংবাদে কালো রঙের লম্বা কুর্তা পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাঁদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সামনে যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁর দিকেই হঠাৎ বন্দুকটি তাক করে ধরছেন। রিকশাচালক থেকে পথচারী, এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকছেন।
৩৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করছেন। তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন। ভিডিওর নির্মাতা বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি মূলত লিমন তোহার ভিডিও ধারণে (ক্যামেরাম্যান) সহযোগিতা করেন।
দুইজনকে ২৮ আগষ্ট রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আদালতে প্রেরণ করেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তাঁর বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে জানা যায়।
গত ২ জুলাই নাসিকের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালি মার্কেট এলাকায় তারা আরবি অক্ষরে কালেমা লেখা জাতীয় পতাকা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে সাটানো হয়। এর পিছনে পুলিশ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জে জাতীয় পতাকার সঙ্গে আরবি অক্ষরে কালেমা যুক্ত করে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার মাওলানা এরশাদ আলীর ছেলে মো. নিয়ামক উল্লাহ (২৫) এবং শেরপুর সদর উপজেলার চান মিয়ার ছেলে সিদ্দিক (২৬)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, জাতীয় পতাকাকে বিকৃত করে কালেমা সংযুক্ত পতাকা তৈরি করে অনলাইন পেজের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ কার্যক্রমের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





































আপনার মতামত লিখুন :