News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

ডাকাত শহীদের কাছে কি শিখবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম ডাকাত শহীদের কাছে কি শিখবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা!

নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সদস্য বিভা হাসানের উদ্যোগে আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নগরবাসী দেখলো এক আশ্চর্য চিত্র। মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, নাসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র বিভা হাসান, আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবীরসহ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের পাশে একই মঞ্চে স্থান পেয়েছেন নিতাইগঞ্জ ও কাশিপুরের ত্রাস খ্যাত ডাকাত শহীদ।

যেই মঞ্চ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তুলে দেয়া হচ্ছে সম্মাননা ক্রেস্ট। সেই মঞ্চে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদকের গডফাদারের অবস্থান দেখে অবাক হয়েছেন সবাই। উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিষ্ময় প্রকাশ করেন অতিথিদের রুচিবোধ দেখে। তবে ভয়ে মুখ ফুটে বলতে পারেননি কিছুই। একজন চিহ্নিত অপরাধীর সামনে থেকে সম্মাননা গ্রহণ করতে বিব্রতবোধ করেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ১৬, ১৭ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিভা হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তারা বাংলাদেশেকে বিশ্ব মানচিত্রে অবদান রাখবে। আমরা আগে মুরুব্বী দেখলে সম্মান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। এখনকার শিক্ষার্থীদের মাঝে সেই লক্ষন দেখিনা। তাই তাদের পরিবারের কাছে আহবান তাদের নৈতিক শিক্ষা দিন। নৈতিক শিক্ষার সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে। প্রত্যেক ধর্মে ভালো ভালো শিক্ষা রয়েছে।’

তবে সাখাওয়াত হোসেন খান ভালো উপদেশ দিলেও তার মঞ্চেই উপস্থিত ছিলো নিতাইগঞ্জ ও কাশিপুরের ত্রাস হিসেবে পরিচিত সাব্বির আহমেদ শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এমপি মুখ খোলার পর নিজের পিঠ বাঁচাতে ভাড়াটে লোকজন নামিয়ে মানববন্ধন করায় শহীদ। মূলত পুরো কাশিপুর অঞ্চলে মাদক, ভুমিদস্যু, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক ময়দানে। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে থেকে প্রভাব বিস্তার করতো। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির কয়েকজন নেতাকে হাত করে রাতারাতি বিএনপি নেতা হিসেবে নিজেকে প্রচার করা শুরু করেছে। নিজের গ্যাং টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন স্থানে আর্থিক সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।

কয়েক মাস পুর্বে রাশেদ নামে এক ট্রাক চালক ও মালিককে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় কুপিয়ে আহত করা হয় তাকে। কোনমতে পালিয়ে প্রাণ বাচায় রাশেদ। ঘটনার বর্ননা দিয়ে রাশেদ জানায়, সম্প্রতি ধার দেনা করে নিজে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। সেই থেকেই তার ট্রাকের উপর নজর পরে শহিদ গ্রুপের সদস্যদের। কৌশলে ডেকে এনে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সেই টাকা না দিলে তার ট্রাক তাদের নামে লিখে দিতে হবে অথবা দিতে হবে প্রাণ।

রাশেদ বলেন, স্ট্যান্ডের সেক্রেটারি শহীদের লোকজন আমার থেকে তারা ২০ লাখ চাঁদা চাইছে। টাকা না দিলে আমি কয়েকদিন আগে যেই ট্রাক কিনছি সেটা ওদের নামে লিখে দিতে হবে। নাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পালায়া হাসপাতালে আসছি। কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত জানতে চাইলে বলেন, শহীদের অনুসারী শুভ, শাহীন, আরাফাত, ইমরান, রাজীব সহ আরও কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। টাকা না পেলে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়, এবং আমার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দেয়। পুরো নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড এখন সন্ত্রাসের রাজত্ব হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনা সহ কাশিপুর অঞ্চলে ডিপিডিসির তার চুরি এবং একাধিক অপকর্মের জন্য শহীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। যা নিয়ে মুখ খুলেন এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় বড় একটি সমস্যা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার অবনতি। এখানে একজনের নাম উল্লেখ করতেই হয় সেটা হচ্ছে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ গ্যাং। এই অপরাধীর নাম প্রতিনিয়ত পত্রিকায় পাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন স্টেপ নেয়া হচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠেছে, এতসব বিতর্ক থাকার পরেও সাখাওয়াত ও বিভা কেন ডাকাত শহীদের সাথে এক মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। আর ডাকাত শহীদকে মঞ্চে বসিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছেই কি বা বার্তা দিলেন তারা? একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর কাছ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী কি শিখবে?