দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুততর করতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর-ভোলার ইলিশা নৌপথে সরাসরি ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ফেরিঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ (কাঁচপুর)-ভোলা (ইলিশা) ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ২৮ নম্বর আদেশের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সেবাদানকারী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী সংযোগে নিরবচ্ছিন্ন ফেরি পারাপার, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন এবং উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও যানবাহন পরিবহনে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসি ৭টি অভ্যন্তরীণ রুটে ফেরি সার্ভিস পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম (সীতাকুণ্ড)-সন্দ্বীপ (গুপ্তছড়া) এবং ২০২৬ সালে হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা রুটে উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
দ্বীপ ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজীকরণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সমতা বিধানের লক্ষ্যে গত ২৭ আগস্ট থেকে ভোলার ইলিশা ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়।
এ রুটে বিআইডব্লিউটিসির ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামের দুটি ফেরি নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কাঁচপুর-ভোলা রুটে এক ট্রিপে ফেরি পরিচালনায় সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা।
সদ্য চালু হওয়া এই ফেরি সার্ভিসটি ভোলা জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবহনকারী ও ট্রাকচালকরা এ রুট ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। সরাসরি ফেরি যোগাযোগ চালু হওয়ায় ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের সঙ্গে ভোলার ইলিশার সরাসরি ফেরি যোগাযোগ দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে ক্রমান্বয়ে আরও সক্ষম ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সহায়ক হবে।



































আপনার মতামত লিখুন :