২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাত্র এক মাস ১২ দিনের মাথায় ছাত্রদলের উভয় শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সেই সাথে বিলুপ্ত করে দেয়া হয় সকল থানা, উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ইউনিট। এরপর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও কমিটি দিতে পারেনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের আক্ষেপের শেষ নেই। কয়েকদিন পরপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় নেতাকর্মীদের আক্ষেপপুর্ন বার্তা। দলে মূল্যায়ন না পাওয়া, বয়স শেষ হয়ে যাওয়া, পদবিহীন অবস্থায় থাকা সহ নানাবিধ সমস্যায় আছেন। কারও কারও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে কাউকে কাউকে। এতকিছুর পরেও কমিটির দেখা মেলেনি নারায়ণগঞ্জে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ চার পদে প্রতিযোগীতা করছেন অন্তত ১০ জন। এদের অনেকেরই নেই ছাত্রত্ব। বয়স ছুঁয়েছে ৩৫ বছরে। আবার কেউ কেউ এখনও ছাত্রত্ব ধরে রেখেছে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত থাকার লক্ষ্যে। দুই বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারনের জন্য। কিন্তু কমিটি না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন অনেকেই।
প্রায় দুই বছরেও কমিটি না আসার পেছনে বেশ কয়েকটি কারন চিহ্নিত করেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষমতায় থাকার আগের পরিস্থিতি ছিলো একরকম। সেসময় ছাত্রদলের দায়িত্ব নেয়া ছিলো চাপের বিষয়। কিন্তু এখন সুসময়ে সকলেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে অংশ নিতে চায়। ফলে এখানে প্রতিযোগীতা অনেক বেশি। সেই সাথে প্রতিটি এমপি, প্রশাসক ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের আলাদা আলাদা বলয় আছে। সেই বলয়ের ছাত্র নেতাদের সামনে এগিয়ে নিতে তাদের পক্ষ থেকে আসে সুপারিশ। যেই সুপারিশ গ্রহণ করা নিয়ে হিমশিম খেতে হয় কেন্দ্রীয় নেতাদের।
এর বাইরে ত্যাগী ছাত্র নেতারা আছেন যারা রাজনীতি করছেন দীর্ঘ সময় ধরে। তবে ত্যাগের পাশাপাশি নেতৃত্ব বিকাশও জরুরি। এমন ব্যক্তির হাতে ছাত্রদলের দায়িত্ব দিতে হবে যার কাছে বাকি সকল নেতাকর্মীরা বশ্যতা স্বীকার করে তার অধীনে রাজনীতি করতে আপত্তি করবে না। কিন্তু এমন শক্ত নেতা না পাওয়াও বড় একটি কারন কমিটি আটকে থাকার পেছনে। তাছাড়া কোন কারনে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আপত্তি তৈরি হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একাংশ বিদ্রোহ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তৈরি হতে পারে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ঢাকার পাশের জেলায় এমন কোন ঘটনা ঘটুক তা চাইবে না কেন্দ্র।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নানাবিধ কারনে আটকে থাকা ছাত্রদলের কমিটি এখন যোগ্য নেতা খুজছে। সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবে এমন নেতা খুঁজে নিয়ে তার হাতে দায়িত্ব অর্পন করলে ছাত্রদল তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে ছাত্র রাজনীতির শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে তারা।






-20260912144331.jpg)





























আপনার মতামত লিখুন :