আবারো নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশন। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় হকার্স মার্কেটের পেছনে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শুভ দাসকে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা হকার্স মার্কেটের পেছনে অবস্থিত দূর্গা মহলের সামনে থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আমলাপাড়া এরাকার কালু মিয়ার ছেলে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মৃত সমর্চান সরদারের ছেলে মো. সোহান (২৪)। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, অনিক ও সুমন মিলে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যাকা-ে অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্যান্য সহযোগিরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
শুভ দাসকে হত্যাকারী মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনিকের সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে অনিকের ঘনিষ্ট ছবি বেরিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে অনিক আমলাপাড়া সহ আশে পাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছিলো।
অনিকের সাথে টিপুর ছবি ভাইরাল হওয়ার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তবে কি অনিকের সেই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু কিনা। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাওয়ার মধ্যেই নতুন করে আরো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুভ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযোগ হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর উক্ত অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান মোতাবেক রামকৃষ্ণ মিশনের দেয়াল ঘেষা গাছের ঝোপ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। আর হত্যাকান্ডের সময় ব্যবহৃত মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের ভেতর থেকে। অভিযানের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায় গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সুমন ওরফে মাইগা সুমন হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের ভেতরে পার্ক করে রাখা একটি মটরসাইকেল দেখিয়ে দেয় এবং সেই মটরসাইকেলটি রাহাতের বলে জানায়। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নিরাপত্তা প্রহরী ও কেয়ারটেকারদের ডেকে জিজ্ঞেস করলে তারাও জানান মটরসাইকেলটি রাহাতের। কবে থেকে এখানে মটরসাইকেলটি রাখা রয়েছে তারা সেটি সঠিক বলতে পারেনি।
পরে মটরসাইকেলটি জব্দ করে ভ্যান গাড়িতে উঠিয়ে নিতে দেখা যায়।



































আপনার মতামত লিখুন :