News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠোর প্রতিরোধ শায়েস্তা করবে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:২১ পিএম জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠোর প্রতিরোধ শায়েস্তা করবে

আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও দেশে থাকা একটি চক্র দেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেই সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে। আপনারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য পরিহার করুন। তা না হলে জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠোর প্রতিরোধ ও শায়েস্তা করবে।

থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বারী ভূঁইয়া বলেন, এক শ্রেণীর লোক দেশটাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, কারণ তাদের 'বুবু' ভারতে বসে বলছেন তিনি নাকি ফিরে আসবেন। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, পালিয়ে যাওয়া কোনো স্বৈরাচার কখনো ফিরে আসেনি; এই ফ্যাসিস্টও আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। বুবু জানেন, তিনি দেশে ফিরলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

নির্বাচনে পূর্বে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার নেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ফেসবুকে লেখান যে দলের জন্য আপনাদের প্রয়োজন, যা একেবারেই সত্য নয়। আপনারা আর কখনোই দলে ফিরতে পারবেন না, কারণ আপনারা দলের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আগামীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি বলেছেন তাদের দাবি মেনে নিলে নাকি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটবে না। তাকে রিমান্ডে নিলেই ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে টিটু বলেন, আমাদের বহু আলেম-ওলামাকে হত্যা করে ট্রাকে করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, বহু নেতাকর্মীকে গুম ও পঙ্গু করা হয়েছে। আন্দোলন করে সেই হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা আর কারো হুমকি-ধমকিকে ভয় পাই না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ বলেন, সাত মাস হলো জনরায়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ৩০ হাজার নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে এই গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বোমাবাজি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু জনগণ বিএনপিকে সরকারে বসিয়ে সেই নৈরাজ্যকারীদের শায়েস্তা করার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালনে বিএনপির নেতাকর্মীরা সবসময় রাজপথে থাকবে।

আত্মগোপনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় বসে গুপ্তভাবে লোক দিয়ে উস্কানি দেবেন না। সাহস থাকলে প্রকাশ্যে ফতুল্লায় আসুন। আপনারা অপরাধী বলেই আপনাদের সে সাহস নেই। জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য রিয়াজ, ফতুল্লা থানা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সাগর সিদ্দিকী, এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান সুমন, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রবিন, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক টিপু, এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিটন, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শাহ আলম পাটোয়ারী ও সদস্য সচিব আল আমিন, কৃষক দলের সভাপতি জুয়েল আরমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ, যুবদল নেতা তাইজুল ইসলাম আল আমিন, রূপম, বিএনপি নেতা মিজান, অরুন, রাসেল, আল মামুন, ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ সাজ, যুবদল নেতা মিঠু খান, রাহাদ চৌধুরী, তৌহিদ, সৈকত রাজ, শাহাদাৎসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।