নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীদের নিয়ে বলয় বড় করছেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। প্রায় সময়ই আইনজীবীদের নিয়ে নানা আয়োজন করছেন। একই সাথে জুনিয়র ও সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগও বাড়িয়েছেন। আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের শক্তিমত্তার জানান দেয়ার জন্যই এই আয়োজন করছেন বলে মনে করছেন সাধারণ আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে থাকা আইনজীবীরা আদালত থেকে চলে যান। আর এই সময়ে আনইজীবী সমিতি নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচন দেয়া হয়।
যারা ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে এখন থেকে প্রতিবছরের আগস্ট মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান ছিলো। কিন্তু বিশেষ সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে আবারও সেই নির্বাচন পিছিয়ে আবারও আগের মতো জানুয়ারিতে নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনও জানুয়ারীতেই অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচন জানুয়ারীতে হওয়ার কথা বললেও নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় এখন থেকেই নির্বাচনী আলাপ আলোচনা সরব হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জানান দেয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
সেই সাথে আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান টানা দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারবেন না। তবে তিনি এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন। সেই সাথে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী বিভিন্ন সমীকরণে নিজেকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে কোনোভাবেই হোক তিনি নিজেকে সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন।
এদিকে নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান সহযোগি হিসেবে কাজ করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন থেকে শুরু করে মহানগর বিএনপির রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে আসছেন।
অনেক সময় বিএনপির অনেক নেতারা সাখাওয়াত হোসেন খানের পাশে না পাওয়া গেলেও এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে ঠিকই পাওয়া যেতো। সাখাওয়াত হোসেন খানের পদ পদবি না থাকা অবস্থাতেও আনোয়ার প্রধান তার সাথে থেকে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে গেছেন। সেই সাথে সাখাওয়াত হোসেন খান ধীরে ধীরে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক পদে অধিষ্ঠিত হন। যে কমিটিতে আনোয় প্রধানকে অনেক গুরুত্বহীনভাবে রাখা হয়।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত হন।
তারই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। আর এই প্রশাসকের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আগের মতো সময় দেয়া হয়ে উঠে না অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের।
বিপরীতে দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আনোয়ার প্রধানের একটা শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। যারা তার একান্ত অনুগত হিসেবে কাজ করে থাকেন। একই সাথে আদালতপাড়ায় সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুপস্থিতিতে আনোয়ার প্রধানের বলয়টি আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অনেক আইনজীবীরা সাখাওয়াত হোসেন খানের পরে আনোয়ার প্রধানকেই শক্তিশালী ভাবতে শুরু করছেন।
এরই মধ্যে ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে আনোয়ার প্রধান সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চান। কিন্তু আনোয়ার প্রধান এখনই সভাপতি পদে নির্বাচন করুক কিংবা সভাপতি পদে আসুক এটা যেন চাচ্ছেন না সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি চাচ্ছেন অন্য কোনো সিনিয়র আইনজীবীকে সভাপতি পদে সুযোগ করে দেয়ার দেয়ার জন্য। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলাপ আলোচনা হয়নি। তবে পরোক্ষভাবে সাখাওয়াত হোসেন খান এটাই চাচ্ছেন বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
তবে এ বিষয়টি আবার আনোয়ার প্রধান মেনে নিতে চাচ্ছেন না। আনোয়ার প্রধান চাচ্ছেন আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই সভাপতি পদে অংশগ্রহণ করে আইনজীবী সমিতির সভাপতি হওয়ার জন্য। ফলে এ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে আনোয়ার প্রধান পরোক্ষ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে দিন যাওয়ার সাথে সাথে তাদের বিরোধ ঘনীভূত হচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা যেন একে অপরের প্রতি অসহ্য হয়ে পড়ছেন।
আর শেষ পর্যন্ত এবারের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান প্রার্থী না হতে পারলে সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে হয়তো তাকে দেখা যাবে না। দুইজনেরই রাজনৈতিক পথচলা ভিন্ন হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তারা রাজনীতির মাঠে একে অপরের শত্রু হিসেবে আবির্ভাব হবেন। আনোয়ার প্রধান সাখাওয়াত হোসেন খানের বাইরে গিয়েই প্রার্থী হবেন। আর আর আগে থেকেই নিজের শক্তমত্তার যোগান দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ পতনের পরপরই ২০২৪ সালের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কথা দিয়েছিলেন এবার যারা নির্বাচন করবে পরবর্তীতে তারা নির্বাচন করতে পারবেন না। কিন্তু আইনজীবী সমিতির ২০২৫ সালের নির্বাচনে সাখাওয়াত হোসেন খানের সেই কথা রক্ষা হয়নি। প্রথমবার যারা প্রার্থী হয়েছিলেন দ্বিতীয়বারেও তাদের অনেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে।



































আপনার মতামত লিখুন :