News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মহানগর বিএনপিতে বঞ্চিতদের মূল্যায়নের আভাস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম মহানগর বিএনপিতে বঞ্চিতদের মূল্যায়নের আভাস

আওয়ামীলীগ সরকারের ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ শপথগ্রহণ শেষে সরকার বিরোধী মিছিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারায়ণগঞ্জে ফিরে ডিআইটি এলাকায় তাকে মিছিল থেকে টেনে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের তৎকালীন আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে শহরে মিছিল করেন। সেখান থেকে ডিআইটি এলাকা থেকে তাকে ও তার সহযোগিত রানা মুজিব সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে খোরশেদের বিরুদ্ধে ৯০টি বেশি মামলা করা হয়। এর কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি ছিলেন খোরশেদ। এক নজর বাবাকে দেখার জন্য আদালতপাড়ায় ঘণ্টা পর ঘণ্টা দাড়িয়ে ছিলো খোরশেদের তিন সন্তান। ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য আহবায়ক কমিটিতে খোরশেদের ঠাঁই হয়নি দলীয় গ্রুপিংয়ে কারণে। এবার বঞ্চিত হওয়া খোরশেদকে মহানগর বিএনপিতে দেখা যেতে পারেন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারিতে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এক যুগ সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে এটিএম কামালের ওপর অতীতে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক লাঠিপেটা ও হামলার ঘটনা ঘটেছিল সেগুলো এখনো আলোচিত রয়েছে।

বিশেষ করে ২০১২ সালের ১৭ মে বিরোধী দলের ডাকা হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটা ও হামলার ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন এটিএম কামাল। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে পালিত হরতালে একটি মিছিল বের করার সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটে। সে সময় তৎকালীন পুলিশের এক কর্মকর্তা এটিএম কামালের ওপর চড়াও হন এবং তার মাথায় ও কানে উপুর্যুপরি লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং এর শারীরিক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন।

২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারিতে এটিএম কামালকে নির্বাচন নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ বহিস্কার করে দল। এর পিছনে প্রত্যাশিত নেতাদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ছিলো। গত বছর ২৬ নভেম্বর দল আবার এটিএম কামালকে ফিরিয়ে নেয়। বহিস্কার হওয়া পর থেকে এটিএম কামাল ও তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আমেরিকা অবস্থান করছেন। বর্তমান আহবায়ক কমিটিতে এটিএম কামালের ঠাঁই হয়নি। নতুন কমিটিতে এটিএম কামালকে মূল্যায়ন করার দাবি উঠেছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার ঘটনার পর মহানগর বিএনপিতে আলোচনায় আসেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। যার কারণে ২০১৬ সালের নাসিকের নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন পেয়ে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরবর্তিতে ২০১৮ সালের মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে নাশকতার ও পুলিশি বাধাদ্যমূলক বিভিন্ন মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার হন। 

২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আহবায়ক হন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সাবেক সভাপতি আবুল কালামকে বাদ দিয়ে কমিটি হওয়া নিয়ে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়। এদিকে বর্তমান কমিটির সাড়ে ৩ বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিয়োগ পেয়ে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তাকেই নাসিকের আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিতে যাচ্ছেন দল এমন বার্তা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যার কারণে তাকে দলীয় পদে রাখছে না দল এমন গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি কমিটি থেকে বাদ পড়া প্রায় তিন বছর পর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চতুর্থবারের এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলে অতীতে পুলিশি বাধা শিকার হয়েছিলেন। মহানগর বিএনপি সভাপতি হওয়া পরও সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়তা না থাকায় দলের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিলো। 

বিগত বছরগুলোতে দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এবং জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ এবং বাধা প্রদানের পড়েছিলেন তিনি। এসব কর্মসূচির অনেকগুলোতে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের পাশে ছেলে আবুল কাউসার আশা ছিলো তার ছায়া হয়ে। 

এমপি আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যর রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ পেয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি দায়িত্ব চলাকালে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক পদে রয়েছেন আশা। তিনি এবার মহানগর বিএনপির নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনা রয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর পুলিশ গ্রেপ্তার হয়ে ছিলেন। সদস্য সচিব হওয়ার এক বছরে বেশি সময়ে পর তিনি প্রথম গ্রেপ্তার হয়ে ৮৩ দিন কারাগারে ছিলেন। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তৃতীয় দফার অবরোধের প্রথম দিন সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনালের সামনে অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করার সময় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। চব্বিশের পাচঁ আগষ্টের পর থেকে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পরও টিপু বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগ দলের চেয়ারম্যান ও নেতাদের কাছে পাঠিয়েছে প্রতিপক্ষ নেতারা।