বন্দরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এক মাসে উপজেলায় ৭টি হত্যাকান্ড, ৪টি অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার এবং ৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
গত ১জুন ২৪ নং ওয়ার্ড বন্দরের নবীগঞ্জ কদমরসুল ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
৭ জুন ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন গার্মেন্ট শ্রমিক মোঃ জুবায়ের (১৮) । কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের এনায়েতনগর ভাংগা ব্রিজের কাছে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারিরা। চারদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মামলা নিতে গড়িমসি করায় এলাকাবাসী জুবায়েরের লাশ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে।
৯ জুন মুছাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বারপাড়া বাগানবাড়ি এলাকা থেকে সজিব (২৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সজিব ওই এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে।
১৭ জুন পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী সাথীকে (৩৮) জবাই করে হত্যা করে স্বামী জনি। এ ঘটনায় জনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০ জুন বন্দরের রূপালী এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৭ বছরের শিশু হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত হাসান বন্দরের রুপালী আবাসিক এলাকার শহীদুল্লাহ ছেলে।
২৬ জুন বন্দরের মুছাপুর এলাকায় ইউপি মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও তার ভাগিনা মো. আলীর মারধরে মারা যান ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন।
৪ জুলাই ২৬ নং ওয়ার্ড বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকার ডোবা থেকে মাসুম রানা নামের এক অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় দিন দিন মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং রাত্রিকালীন চুরির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর উদ্বেগ বেড়েছে। রাতের বেলা চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারী ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) দীপংকর ঘোষ জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনার মূল আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।








































আপনার মতামত লিখুন :