গ্যাস সংকটে কমবেশি সকল গ্রাহক যখন হাবুডুবু খাচ্ছে তখন এক শ্রেণির অসাধু গ্রাহকের অবৈধ কম্প্রেসার ব্যবহার তা আরও তীব্র করে তুলছে।এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। অবৈধ কম্প্রেসার ব্যবহার বন্ধ করে গ্যাসের সুষম বণ্টন সময়ের দাবি।
নারায়ণগঞ্জের সর্বত্রই গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।বেশ কয়েক বছর যাবত কিছু অঞ্চলে গ্যাস নেই বললেই চলে। অসংখ্য গ্রাহক গ্যাস বিহীন থেকেও বিল পরিশোধে বাধ্য হচ্ছে। রান্নাবান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা বা অন্য কোন জ্বালানি ব্যবহার করছে। দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত! দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস একেবারেই থাকে না। মাঝে মাঝে থাকলেও তাতে রান্নার কাজ চলেনা। তারপরও অনেকে রান্নার কিয়দাংশ এই গ্যাসেই সারার চেষ্টা করে।কিছুদিন যাবত তাও সম্ভব হচ্ছে না। স্বল্প মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ থাকাকালীন সময়ে কিছু গ্রাহক কম্প্রেসার যুক্ত স্ট্যাবিলাইজার বসিয়ে নিজ সংযোগে গ্যাস প্রাপ্তি প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।প্রধান সরবরাহ লাইনের কাছাকাছি থাকা গ্রাহকদের কেউ কেউ অবৈধ কম্প্রেসার ব্যবহার করে মূল পাইপলাইন থেকে গ্যাস টেনে নেয়ার ফলে অন্যরা গ্যাস পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের বেশকিছু অঞ্চলে কিছু অসাধু গ্যাস মিস্ত্রী প্রায়শ: অবৈধ উপায়ে একজনের গ্যাস লাইন বন্ধ করে অন্যের গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করছে। এসব কাজ রাতের আঁধারে বা দিনের বেলা লাইন মেরামত করার অজুহাতে করা হচ্ছে।তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রভাবশালী চিহ্নিত তথাকথিত কিছু গ্যাস ঠিকাদার। বলা চলে গ্যাস সংক্রান্ত যাবতীয় অবৈধ কাজ সম্পন্ন করার জন্য নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয় এবং উদাসীনতার কারণে অপরাধী চক্র বুক ফুলিয়ে এসব কুকর্ম করে যাচ্ছে যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকগণকে।
গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর যে কোন প্রচেষ্টা কার্যতঃ ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী সহ সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে।গ্যাস সরবরাহ খুব অল্প মাত্রায় বৃদ্ধি পেলেও তার সুফল সব গ্রাহক সমান ভাবে ভোগ করতে পারছেনা।পাইপ লাইনে গ্যাসের উপস্থিতি টের পেয়ে এক শ্রেণির অসাধু গ্রাহক কম্প্রেসার ব্যবহার করে সব গ্যাস টেনে নিচ্ছে।বঞ্চিত হচ্ছে অধিকাংশ গ্রাহক। সরবরাহ কম বেশি যাই হোক সবাই সমান ভাবে গ্যাস পাবে এটাই হওয়া উচিত কিন্তু তা আর হচ্ছে কোথায়? গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে আসুক এটি সবার চাওয়া, যতক্ষণ তা না হচ্ছে ততক্ষণ সরবরাহ অনুযায়ী গ্যাস প্রাপ্তির আশা করা নিশ্চয় অন্যায় নয়,আর তা নিশ্চিত করা গ্যাস কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। গ্যাস সরবরাহ যখন স্বাভাবিক ছিল তখনও তারা দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিল না বরং অধিকাংশ অবৈধ সংযোগে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, বর্তমান গ্যাস সংকটের সময় তাদের দায়িত্ব পালন প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। নইলে তাদের নাকের ডগায় গ্যাস সংকটের সময়েও কেন অবৈধ সংযোগ এবং অবৈধভাবে কম্প্রেসার মেশিন বসিয়ে বেশ কিছু গ্রাহক সুবিধা লুটে নিতে পারছে?গ্যাস টেনে নেয়ার মেশিনটি স্টাবিলাইজার নামে পরিচিত হলেও এটির ভেতরে কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাস টেনে আনা হয়। বিষয়টি গ্যাস কর্তৃপক্ষের অজানা থাকার কথা নয়। তাহলে কিভাবে এই অবৈধ মেশিন উৎপাদন এবং ব্যবহৃত হচ্ছে,তার জবাব গ্যাস কর্তৃপক্ষেরই দেয়ার কথা। সংকট সমাধানে স্বল্পমেয়াদী কিছু কাজ এখনই করা যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। তার মধ্যে প্রথমেই হচ্ছে অবৈধ কম্প্রেসার এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। এসব কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় থাকা উচিত নতুন গ্যাস কুপ অনুসন্ধান, খনন এবং উত্তোলনের চেষ্টা করা। পাশাপাশি তরল গ্যাস আমদানি বা বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা। দীর্ঘদিন যাবত বৈষম্যের শিকার হওয়া গ্যাস গ্রাহকগণের দুর্ভোগ দূর করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবশ্য কর্তব্য বলে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের ধারণা। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি, গ্যাস সংক্রান্ত অবৈধ কর্মকান্ডের বিলোপ এবং সরবরাহকৃত গ্যাস সমানভাবে সব গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে সেই প্রত্যাশায় দিন গুনছে নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য আবাসিক গ্যাস গ্রাহক।
লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা










































আপনার মতামত লিখুন :