নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ সময়ে সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণার ইঙ্গিত নিয়ে মাঠে নামছেন সাবেক ও প্রত্যাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের নজর কেড়েছেন। একই সাথে নবাগতরা ওয়ার্ডের এলাকাগুলোতে ঈদ মোবারক পোষ্টারে সয়লাব করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ১৭ বছর পর বিএনপি ক্ষমতা আসা পর এবার সবদলীয় প্রার্থীদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। এদিকে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক কাউন্সিলররা পলাতক থেকেও আবারো সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
২৭টি ওয়ার্ডের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ডজন করে রয়েছেন। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি রয়েছে আপাতত।
অন্যদিকে শহরের ওয়ার্ডগুলোতে সাবেক কাউন্সিলর পরাজিত করে রেকর্ড করতে চান নব্য প্রত্যাশিতরা। বন্দর অঞ্চলের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ে মধ্যেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা যোগ হতে চান। এদিকে ৯টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা গোপনীতায় মধ্যে চলছেন। বিএনপি ক্ষমতা আসায় আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টির সাবেক কাউন্সিলরা প্রকাশ্যে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছেন।
জানা যায়, তিনটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। যার কারণে আবারো ধারাবাহিকতা বজার রাখতে তফসিলের ঘোষনা পরপরই সক্রিয় হবেন সাবেকরা।
সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এবারের নির্বাচন হতে লড়াইয়ের। এখনই অনেক মেয়র প্রার্থী তোড়জোড় রয়েছেন। তাদের পছন্দের নেতা ও সমর্থকরা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ১৫ বছরের সিটি কর্পোরেশন হওয়া পর জনগণ যাদের কাছে পেয়েছেন তাকেই নির্বাচিত করবেন এটা বিশ্বাস করি। এরপরও কাউন্সিলর প্রার্থীদের দীর্ঘ লাইনের মধ্যে সাবেককের সর্বত্র এগিয়ে রাখবে ভোটাররা।
সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু জানান, ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ যদি চাই আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হবো। ইতোমধ্যে তাদের ভোটে তিনবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সবোচ্চ ভোটে জয়ী করিয়েছেন। দেড় বছর যাবৎ সাবেক কাউন্সিলর হলেও এক পলকের জন্য ওয়ার্ডের মানুষ থেকে সরে দাঁড়ায়নি। এলাকা বিত্তবান সহ এলাকার সুশীল সমাজ থেকে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ওয়ার্ডবাসীর কাছে পৌছে দিয়েছি। ১২নং ওয়ার্ডে সকল উন্নয়নে পাশে ছিলাম, আবারো থাকবো জনগণের রায় নিয়ে।
সাবেক কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর জানান, আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন জনগণের পাশে থাকতে কাউন্সিলর প্রার্থী হবো। ইতোমধ্যে যারা কাউন্সিলর হয়ে জনগণের পাশে দাড়াঁয়নি তাদেরকে বিতাড়িত করেছে জনগণ। ১৯নং ওয়ার্ডবাসির প্রয়োজনে সব সময় পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।
এদিকে ১৯নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও ফটো সাংবাদিক আমির হোসেন জানান, জনগণের ভোটে বার বার সাড়া পেয়েছি। ওয়ার্ড বাসি বুঝতে পেরেছেন কাকে জয়ী করলে উন্নয়ন ও সমাজ সুন্দর থাকবে। কোন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া থাকা প্রার্থীকে কাউন্সিলর জয়ী করবে না ওয়ার্ডবাসী। জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে ১৯নং ওয়ার্ডকে মডেল করে গড়ে তোলা হবে।
২১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার জানান, প্রভাবমুক্ত পরিবেশে এবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হবে। বিগত সময়ে প্রভাবশালীদের ইশারায় জনগণের কাউন্সিলরকে পরাজিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড বাসি প্রতিটি মানুষ জানেন এই ওয়ার্ডের যোগ্য কাউন্সিলর প্রার্থী কে।
































আপনার মতামত লিখুন :