নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের ফুলহর এলাকা যেন নগরীর অংশ হয়েও মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এই এলাকার শত শত পরিবার। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর পাশাপাশি ২৭নং ওয়ার্ডের অন্যান্য এলাকাগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া পেলেও ফুলহর এলাকা যেন উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা হিসেবে তারা ট্যাক্স প্রদান করলেও সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের জন্য যেসব নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হয় সে সব কিছুই তারা এখন পর্যন্ত পায়নি। এমনকি এলাকার বাসিন্দা পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি পাকা হয়নি। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি রাস্তায় পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। সামান্য বৃষ্টিতেই বিপাকে পড়তে হয় স্কুল গামী কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে ফুলহর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ৩১নং ফুলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশ ঘেষে সরু কাঁচা মাটির রাস্তা নেমে গেছে। এই সরু এবং মাটির রাস্তাটিই ওই গ্রামের কয়েকশত পরিবারের যাতায়াতে একমাত্র সড়ক। এখানে নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এই ড্রেন নির্মাণের কাজ অর্ধেক পথেই আটকে আছে। ফলে আগে যতটুকুই মানুষ স্বাভাবিক ভাবে যাতায়াত করতে পারতো সেই পথে ড্রেন নির্মাণের কাজ ধরে ফেলে রাখার কারণে সরু সেই রাস্তাটিও সংকোচিত হয়ে গেছে। ওই সংকোচিত রাস্তা দিয়েই হাঁটাচলা করতে হয় সাধারণ মানুষদের। সেই সাথে রয়েছে মশার উপদ্রব।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এই রাস্তাটির জন্য বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। ২৭ ওয়ার্ডের সব জায়গা উন্নত হয়েছে। আমাদের এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নাই। আমরা সাপ্লাই পানি পাইনা, গ্যাস পাইনা, ড্রেন নাই, রাস্তা নাই, আমরা শুধু শুধু গিয়ে ভোট দিয়া আসি।
আমাদের এখানে ড্রেনের খুবই প্রয়োজন। ফুলহর প্রাইমারী স্কুলের পেছনে বহু পরিবারের বসবাস, একটি রাস্তা ও ড্রেনের অভাবে আমাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আগে যে কাউন্সিলর ছিল উনি ২৭নং ওয়ার্ডে কিছু কিছু কাজ করলেও আমাদের ফুলহর এলাকায় কোনো কাজ করেনি। একটি বৃষ্টি হলেই এখানে বন্যা হয়ে যায়। আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারেনা। অতিরিক্ত মশার কারণে আমাদের এখানে মশাবাহিত রোগের হারও বেশি। ময়লা ফেলার ডাস্টবিন নেই। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা পুকুরে ময়লা ফেলতে হয়। এর ফলে পুকুর গুলো ভরাট হয়েও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত যেন আমাদের এই ফুলহর এলাকার সমস্যা গুলো সমাধান করা হয়।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলহর এলাকার পাশেই রয়েছে শীতলক্ষ্য নদীর সাথে সংযুক্ত একটি খাল। স্থানীয়রা যেটিকে কক্ষ নদী বলে থাকে। ওই খালটি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সঠিক তদারকির অভাবে সেখানে গৃহস্থলির ময়লা ফেলে অনেকস্থানে স্তুপ সৃষ্টি করা হয়েছে ফলে পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে অবৈদ দখলদারদের দখলের কারণে খালটির স্বাভাবিক গতি হারিয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে। এলাকাবাসীর দাবি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে এসব দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

































আপনার মতামত লিখুন :