নিজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হত্যার শিকার নাসির হোসেনের কিলিং মিশনের দুই মাস্টারমাইন্ড আব্দুস সাত্তার বাবু ও শরীফকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এতে চাঁদমারী মাঊরাপট্টি এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
১৪ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদমারী মাঊরাপট্টি ডিস ইন্টারনেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নাসির হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এতে সিসিটিভি একটি ফুটেজে শরিফ ও জুয়েলকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। একই সাথে শরিফের বিরুদ্ধে পিচ্চি মানিক চাঁদমারী মাঊরাপট্টি একটি গ্যারেজে হত্যা অভিযোগে র্যাবের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
স্যাটেলাইট কেবল ব্যবসায়ী নাসির হত্যার পেছনে দুটি কারণ মনে করছেন পরিবার। প্রথমত ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব। দ্বিতীয়ত মাদক ব্যবসা। পরিবার বলছে, এ দুটি কারণেই নাসিরকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সজিব, শান্ত, আরিফ ও নাঈম সহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্থানীয় মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের চারদিকে দীর্ঘ বছর ধরে মাদকের হাট পরিচালনা করেছেন রুমী আক্তারের নেতৃত্ব তার স্বামী লেবু মিয়া, বাবা মুক্কা ও ছোট ভাই ফজল সহ একদল মাদক ব্যবসায়ী। চাঁদমারী সবুজবাগ এলাকা রুমীর বসবাস থাকলেও মাউরাপট্টি, মাইক্রোস্ট্যান্ড ও এসপি অফিসের সামনে মাদক বিক্রি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এই নিয়ে টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর একাধিক অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসা পর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে রুমীর নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নাসির হোসেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে এলাকায় বিক্রি না করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং নিজেই রুমীকে এমনকান্ডে নিষেধ করে ছিলেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তে পরিবর্তনে নাসিরকে ম্যানেজ করার জন্য শরিফকে দায়িত্ব দেন রুমী। রুমী মাদক পরিচালনা থেকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা নাসিরকে দেয়ার প্রস্তাব করেন শরিফ। এতে রুমী মাদক স্পট বন্ধ ও এসব থেকে সরে যেতে শরীফ পরামর্শ দেন নাসির। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার অফিসে ফাঁকা পেয়ে দরজা বন্ধ করে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী সায়মা বেগম জানান, চাঁদমারী ডিস ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে পার্টনার আব্দুস সাত্তার বাবু’র সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধ ছিল। ধারণা করছেন সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। নিহতের স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
জানা গেছে, ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের স্বর্গ বলে খ্যাত ছিল। তবে এক বছর পূর্বে চাঁদমারী বস্তি উঠিয়ে দেয়া হলেও বস্তির সেসব অপরাধীরা বর্তমানে আশেপাশের এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে। আর এসব অপরাধীরা বর্তমানে চাঁদমারী মাউরাপট্টি এলাকার দাউদ ও পুত্রদের বলয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। দাউদের ৫ ছেলের মধ্যে শরীফ ও আরিফের নেতৃত্বে চলছে কিশোর গ্যাং, মাদক, জুয়া ও অটোরিকশা চোরাই সিন্ডিকেট।
২০২৩ সালের ২৪ জুলাই রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লার গাবতলী টাগারপাড় এলাকার সন্ত্রাসী মানিক ওরফে পিচ্ছি মানিককে (৩৫) বিচারের কথা বলে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে। এই গ্যারেজের অন্তরালে মূলত অটোরিকশা চোরাই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো শরীফ। তার নেতৃত্বে রয়েছে কমপক্ষে ১৫ জনের অটোরিকশা চোরাই সিন্ডিকেট।
২০২২ সালের ১২ আগস্ট মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিপরীতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কেরে পশ্চিমে চানমারী এলাকার বেইলি স্কুল গলির সড়কে দুলাল (২০) নামে এক মিশুক চালককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে যায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আলাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শরীফ গ্রেফতার হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী নাছির (৬০) হত্যাকা-ের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন শরিফ (৪০), জুয়েল (২০), আরিফ (৩০), সজিব (৩৬), শান্ত (২৮), নাঈম (২৫), মজিদ (৪২), আব্দুস সাত্তার বাবু (৫২), আবির (২৪) ও রুমি (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন।
নিহত নাছির মাউড়াপট্টি এলাকার মৃত সাইজ্জদিনের ছেলে। তিনি “ফ্রেন্ডস ক্যাবল” নামের একটি ডিশ ও ক্যাবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।



























-20260522173818.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :