নারায়ণগঞ্জে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রগামী ভূমিকায় ছিলো ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যখন হরতাল কিংবা অবরোধ ডাক দিলেই বিএনপির নেতাকর্মীরা যেত আত্মগোপনে। তখন মাঠে আন্দোলন টিকিয়ে রাখতো ছাত্রদলের কর্মীরা। তবে সেই ছাত্রদল এখন পদে পদে লাঞ্ছিত হচ্ছে খোদ নিজ দলের মধ্যেই। যা নিয়ে হতাশ বহু ত্যাগী ছাত্রদল কর্মী। হতাশা অনেকেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন প্রকাশ্যেই।
সম্প্রতি সাবেক ছাত্রদল নেতাদের হতাশা প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ আছেন দলীয় পরিচয় না থাকার হতাশা, আবার কেউ আছেন আর্থিক কষ্টে থাকার হতাশা। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে খোদ নিজ দলে লাঞ্ছিত হবার ঘটনা। বিএনপির সিনিয়র নেতারা বহুকিছু অর্জন করলেও মাঠে আন্দোলন জারি রাখা ছাত্রদল কর্মীদের অধিকাংশের অর্জনই শূন্য। এখনও ঘুরতে হচ্ছে শীর্ষ নেতাদের পিছু পিছু। তাদের এত বছরের ত্যাগের যেন কোন মূল্যই নেই।
নিজ দলের হাতে নিগৃহীত হবার সূত্রপাত ঘটে কাঞ্চন পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক পাভেলকে হত্যার মধ্য দিয়ে। ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতে কাঞ্চন পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তাদের অনুসারীরা পাভেলকে পিটিয়ে হত্যা করে। কোন দোষ না করা স্বত্বেও কেবল ভিন্ন বলয়ের রাজনীতি করার অপরাধে তাকে হত্যা করে খোদ নিজ দলের নেতাকর্মীরাই। এই ঘটণার পর উত্তেজিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বায়েজিদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় জামিন নিতে আসা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ নেতা সজীবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করেন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান। এসময় সজীবকে রক্ষায় এগিয়ে আসে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও বারের নেতা রাজীব মন্ডল। তিনি এসে সজীবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। সেই সাথে ফারহানকে মারধর করে চোরের মত টানতে টানতে বার ভবনের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখেন।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। রাজীব মন্ডলকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। আবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপিপন্থী আইনজীবী রাজীব মন্ডলকে ধন্যবাদও জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুপিয়ে আহত করা হয় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পাপ্পুকে। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল মিয়া ও তার অনুসারীদের হামলায় গুরুত্বর জখম হয় পাপ্পু।
সবশেষ নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে চড় দেয় ছাত্রলীগ ঘেঁষা ও অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ট অনুসারী নুরুন্নাহার তিন্নি। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সামনেই তাকে চড় দেয় তিন্নি। এই ঘটনায় টিপু বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করেনি। কথিত আছে, ৫ আগস্টের পর থেকে তিন্নি মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আর সেই কারনেই ছাত্রদল নেতাকে চড় মারার দুঃসাহস দেখাতে পেরেছেন।
প্রতিটি ঘটনাতেই ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিজেদের সহকর্মীদের উপর এমন অন্যায়ের ঘটনায়। বিপদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করে সুসময়ে তাদের উপর এমন আচরণ মেনে নেয়ার মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। প্রত্যাশা করছেন, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা দায়িত্ব নিয়ে এই ধরণের অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার করবেন এবং দলের ভেতর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন।





























-20260522173818.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :