News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নারী আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় বাঁধনের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম নারী আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় বাঁধনের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন।

শুক্রবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টস থেকে এক স্ট্যাটাসে এই প্রতিবাদ জানান। অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন বলেন, আমরা পেশাজীবী নারীরা প্রতিদিন কর্মস্থলে যাই মাথা উঁচু করে, সম্মানের সাথে নিজের মেধা ও শ্রম দিতে। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় আমরা পার করি সহকর্মীদের সাথে। বিভিন্ন পরিবার, ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসলেও প্রতিদিন একসাথে কাজ করতে করতে কখন যেন আমরা একে অপরের আত্মার আত্মীয় হয়ে উঠি। এই সুদীর্ঘ পথচলায় আমাদের বন্ধনটা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কোনো অংশে কম হয় না। আমরা সকল আইনজীবী মিলে তো আসলে একটাই পরিবার, আইনজীবী পরিবার'।

একই মায়ের পেটের দুই ভাই-বোনের মধ্যেও কত বিষয়ে মতের অমিল হয়, মান-অভিমান হয়, রাগ-অনুরাগ হয়। কিন্তু দিনশেষে একজনের বিপদে অন্যজন বুক চিতিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। এটাই তো চিরন্তন নিয়ম। ঠিক তেমনি, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা সহকর্মী ভাই-বোনদের মধ্যেও কাজের ক্ষেত্রে মতের অমিল হতেই পারে, দ্বিমত থাকাটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কারো সাথে দ্বন্দ্বে জড়ালে আমরা তার পরিবার বা চরিত্র নিয়ে নোংরা গবেষণায় নামবো কিংবা মানহানিকর কোনো উক্তি করবো। এগুলো অত্যন্ত নিচু মানসিকতার পরিচয় দেয়। একজন আইনজীবী যখন আরেকজন আইনজীবীকে অকথ্য ভাষায় অপমান করেন, কিংবা গায়ে হাত তোলার মতো ধৃষ্টতা দেখান, তা শুধু পেশাগত অসদাচরণই নয়  বরং চরম নৈতিকতা বিবর্জিত এবং বিবেকহীন কাজ।

একজন নারী হিসেবে, একজন সহকর্মী হিসেবে, আরেকজন নারী আইনজীবীর সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আইনজীবী সমিতির শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ সহ সকল বিবেকবান আইনজীবীদের কাছে আমার অনুরোধ, এই পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে এবং কর্মস্থলে আমাদের বোনদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে দয়া করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। আসুন, আমরা আমাদের পেশার পবিত্রতা বজায় রাখি।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে নারী আইনজীবীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজেরও অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবীর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পীর সাথে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদের সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু আমেনা আক্তার শিল্পীর উপড় চড়াও হন। সেই সাথে তাকে কিল ঘুষি মারে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে অন্যরা এসে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী বলেন, আমি আইনজীবী সভাপতি ও সাথারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে দুইজন মহিলা হকারকে সরিয়ে দূরে বসতে বলি। সেই ঘটনার জের ধরে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ আমাকে জিজ্ঞস করেন আমি কেন সরিয়ে দিয়েছি? আমি বলি আমি একা সরায়নি। আপনার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেন। এভাবে কথা বলার এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে আমাকে ঘুষি মারে।

এদিকে অভিযোগে আমেনা আক্তার শিল্পী উল্লেখ করেন, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাকে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে শিনায় ঘুষি মারে। কয়েকবার আইনজীবীদের মোটা ডাইরী ও ব্যাগ ছুরে মারে। অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয় এবং আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ও মোক্কেলদের সামনে মারার জন্য তেড়ে আসে। অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অন্যান্য আইনজীবীদের সাথেও প্রায়শই দুর্ব্যবহার করে ও গায়ে হাত তুলে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, এরকম একটি ঘটনা শুনেছি। অভিযোগ পেলে এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।