ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ফলে আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় ভোগান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে চলমান নির্মাণ কাজের চরম ধীরগতির কারণে যানজটের ভোগান্তি নিত্যদিনে পরিনত হয়েছে। যা অতিব ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জেও প্রভাব ফেলে চলেছে। তবে, উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বরতদের ভাষ্যমতে, এই কাজের ফলে ঈদ যাত্রায় কোনো প্রকার ভোগান্তি হবেনা।
মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজে রুপান্তরিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ লম্বা সময় ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণ কাজটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হতে শুরু হয়ে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় গিয়ে বাস্তবায়ন হবে। পুরো প্রকল্পটি প্রায় ২০৯ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে বাস্তবায়িত হবার কথা রয়েছে। তবে কাজের ধীরগতিই মানুষকে নাজেহাল করে তুলছেন।
দেখা গেছে, সড়কের নির্মাণ কাজ চলায় যাতায়াতকারী ছোট-বড় যানবাহনকে নিয়মিত ধীরগতিতে পারাপার হতে হয়। এরফলে সড়কটিতে নিত্যদিনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে সেই যানজট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রভাব ফেলে। এতে মানুষের কর্মঘন্টায় নষ্ট হবার পাশাপাশি চরম আকারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ অংশে এই যানবাহনের ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দাড়িয়েছে সড়কের কাজের নির্মাণ সামগ্রী আনা-নেওয়ায় ভারী যানবাহন লোড-আনলো করা এবং গাড়ি থামিয়ে রাখা। এছাড়াও রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া ও এর আশপাশের অনেকাংশে বড়বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।
এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা দাবি করেন,যাত্রামুড়া ব্রিজ খুলে দেওয়ার পরই ঈদ যাত্রার কষ্ট কিছুটা হলেও লাগব হবে।এছাড়াও নির্মাণ কাজে তারা সকল প্রকার নিয়ম বেঁধে জনভোগান্তি এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী কয়েকজন বাস চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা অতিষ্ঠ হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চালকরা বলেন, নির্মাণ কাজের ফলে ১০ মিনিটের সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা সময়ে পারাপার হতে হয়। এই ভোগান্তি তাদের প্রতিদিনের। এছাড়াও এঁকেবেঁকে এবং প্রতিযোগিতা করে চালানোর ফলে বাহনেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ কাজ চলার কারণে মাঝেসাঝে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও গাড়ির ধীরগতি যানজট হয়ে থাকে। তবে, ঈদ যাত্রায় যানজট সৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দেখছি না। আমরা সর্বক্ষণ সড়কে অবস্থান করে থাকছি।
বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আজীম বলেছেন, সিলেট মহাসড়কের চলমান কাজের জন্য ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি হবে না বলে আমরা আশাবাদী। কারণ আমরা ঈদের ছুটি চালুর আগেই এই কাজ বন্ধ করে দিবো। মূলত যাত্রামুড়া ব্রিজ নির্মাণের কারণে যে সমস্যাটা ইতিপূর্বে হয়ে আসছে সেটার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।ওই ব্রিজকে আগামী ২৩মে খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যানজট সৃষ্টি যেনো না হয় সেজন্য আমরা সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেই কাজ চলমান রেখেছি।
মহাসড়কের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ কবে জানতে চাইলে তিনি বলন, ২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্প শেষ হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম বলেছেন, অতি বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ ও এর সামনে কিছু অংশ খানাখন্দ তৈরি হয়েছিল,ওই খানাখন্দের সংস্কার গগকাল ১৯ মে শেষ হয়েছে। এখন এই মহাসড়কে কোনো খানাখন্দ নেই। অপরদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের যে উন্নয়ন প্রকল্প চলমান সেটা নারায়ণগঞ্জ সওজের হাতে নেই। সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।



























-20260522173818.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :