News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

ধানের শীষ আর পিটুনীতে হকাররা বেপরোয়া


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম ধানের শীষ আর পিটুনীতে হকাররা বেপরোয়া

ক্ষমতাসীন বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ফুটপাতে বসার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি দিয়েছেন শহরের উচ্ছেদকৃত হকাররা। ৪ মে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অন্যদিকে বিকালে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিম শহরে হকার উচ্ছেদ চলাকালে শহরের লুৎফা টাওয়ারের সামনে থেকে দৌড়ানী দেয় হকাররা। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের গাড়ীতে থাকা ছয়জনকে পিটুনী দিয়ে লাঞ্ছিত করে। এমন ঘটনায় রীতিমত আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে অন্তরালে উৎসাহী দেয়া হকাররা বেপরোয়া রূপ নিয়েছে।

জানা যায়, চাষাঢ়া পানোরামা প্লাজা সামনে নাসিকের উচ্ছেদ টিম অভিযান চলাকালে হকাররা একজোট হয়ে ধাওয়া দেয়। এ সময় গাড়ী ড্রাইভার সহ অন্যান্যরা পালানো সময়ে নূর মসজিদের সামনে এক কর্মচারীকে মারতে মারতে লাঞ্ছিত করে উত্তেজিত হকাররা। ৬ জন আহতে হলেও লাঞ্ছিত হন জাহাঙ্গীর এবং রুহুল। এসময় তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায় হকারদের বিরুদ্ধে। 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান সময়ের নারায়ণগঞ্জকে জানান, এটা হকারদের অত্যন্ত বাড়াবাড়ি, তাদের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। তাদের পূর্নবাসনের ব্যাবস্থা করার কথাও বলেছি। সেই পর্যন্ত তারা যদি ধৈর্য্য না রাখে সেটা আইনের পরিপন্থী। আজ যেটা করেছে সেইটা আইনের ব্যাত্তয় ঘটিয়েছে। আমাদের কর্মচারিদের মারধর করেছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হন স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে হকাররা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়নের সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। 

হকার নেতা রনি বলেন, আমরা জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করি। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। তাই আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত ফুটপাতে বসার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরছি। প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এদিকে হকারদের দাবি, পুনর্বাসন পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। দ্রুত সমাধান না এলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিবেন।