নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলার পর অনেকটাই হতভম্ব অবস্থা নাসিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের| রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ধারিত হকার সমস্যার বোঝা টানছে হচ্ছে নাসিক কর্মীদের| প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী হকারদের মালামাল জব্দ করতে হয় কর্মীদের| আর এতেই হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালাচ্ছে কর্মীদের উপর| নাসিক কর্মীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত কাজেও চাষাঢ়ার দিকে আসতে ভয় পাচ্ছেন| কারণ মুখ চিনে রেখে হামলা চালাবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে হকাররা|
নাসিকের এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে সমাধান চাইছেন কর্মীরা| তারা বলছেন, রাজনৈতিক শেল্টারেই হকাররা হামলা চালাচ্ছে নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর| ফলে এই হামলা চালানো হকারদের মোকাবেলা করা উচিৎ রাজনৈতিক ভাবেই| অথবা পুলিশ প্রশাসন দিয়ে তাদের শহর ছাড়া করতে হবে| অন্যথায় নিরস্ত্র উচ্ছেদ কর্মীরা ভুগবেন নিরাপত্তাহীনতায়, সেই সাথে হবেন বার বার হামলার শিকার|
গত সোমবার বিকেলে হামলা চালানো হয় নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর| ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টাতেও একজন অভিযুক্ত হকারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ| মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলা দায়ের হলেও হকাররা মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফুটপাত দখলে রেখে নিজেদের মত ব্যবসা করে যাচ্ছে| কোন কিছুতেই পরোয়া করছেন না প্রশাসকের নির্দেশনার|
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত দেড়শত হকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিটি করপোরেশন| মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন নাসিকের ভারপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা মাজহার উদ্দিন খন্দকার|
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ মে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে হকার নেতা শাহাজাহান, রনি, সাইফুল, আলাউদ্দিন, মনির, মানিক, আরিফ, রাকিব, সজল, হাকিম সহ ১০০/১৫০ অজ্ঞাত হকারদের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়| ইতোমধ্যে সেই হামলার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে| এই হামলায় নাসিকের উচ্ছেদ কর্মী শিপন, হাসান, হাবিব, হরি, ফাহাদ, জাহাঙ্গীর, রুহুল আমিন, ইউসুফ, রমজান ও নূর আলম গুরুতর আহত হয়| এসময় তাদের মোবাইল, মানিব্যাগ, ঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে যায় হকাররা|
সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই হকারের বিরুদ্ধে অবস্থান জারি রাখুক এবং প্রশাসনকে চাপ দিয়ে হকারদের উচ্ছেদে ভুমিকা রাখুক| অন্যথায় নিরস্ত্র উচ্ছেদ কর্মীরা বার বার হামলার শিকার হতে পারেন| হকাররা পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়| আমাদের কর্মীরা সংখ্যায় বেশী হলেও তারা সংঘাতে লিপ্ত হতে যান না| ফলে নিরাপত্তার দিকটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দেখতে হবে| মাননীয় প্রশাসক যদি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমš^য় করে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেন তাহলে শহর হকারমুক্ত রাখা সম্ভব|



































আপনার মতামত লিখুন :