News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

কারাদণ্ডেও থামছে না দালাল চক্র


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম কারাদণ্ডেও থামছে না দালাল চক্র

নারায়ণগঞ্জ সরকারি বেসরকারি অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে অর্থ হাসিলে দালাল চক্র দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানা প্রলোভন বা ভীতি দেখিয়ে অবৈধ উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দালাল চক্র এখন সরকারী পাসপোর্ট অফিস ও হাসপাতালগুলোতে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে র‌্যাবের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আটক ও সাজা দেয়া পরও সাধারণ মানুষের প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় হাসপাতাল ও পাসপোর্ট অফিসগুলোতে দালাল চক্রকে থামানো যাচ্ছে না। এদিকে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতা কারণে দালাল চক্র সদস্য সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে।

৭ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় চারজনকে ১০ দিনের এবং ৩জনকে ৭ দিনের করে বিনাশ্রমে সাজা প্রদান করা হয়। একই সাথে আটকদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.তারিফ আল তাওহীদের নেতৃত্বের র‌্যাব-১১ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটককৃতরা হলেন বিল্লাল, আসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. ইউসুফ হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান ও তানভীর মাহতাব।

অভিযানকালে র‌্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার আল মাসুদ খানসহ র‌্যাব ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত মাসের ২২ এপ্রিল খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দালাল বিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে কারাদন্ড ও একজনকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম ও র‍্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আল মাসুদ খান। এসময় র‍্যাব, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়।

আটকরা হলেন, মোজাম্মেল হক বাদল, আম্বিয়া, রাসেল এবং আ. মান্নান। এর মধ্যে মোজাম্মেল হক বাদলকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আম্বিয়া ও রাসেলকে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, আ. মান্নানকে ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আটকরা রোগীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসার সিরিয়াল আগে-পিছে করে দিতো। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বিভ্রান্ত করে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিতো, যার মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতো। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। সাধারণ রোগীরা যাতে হয়রানি ছাড়া এবং স্বচ্ছভাবে চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।