নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকটে রান্নায় সমস্যা হচ্ছে। কোথাও চুলায় গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করতে স্বাভাবিক সময়ের কয়েক গুণ বেশি লাগছে। কোথাও আবার দিনের বড় একটা সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন গাড়িচালকেরা। গ্যাস না থাকায় কোনো কোনো স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর সঙ্গে দিনের বিভিন্ন সময় ও রাতের লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
দেওভোগের সালেহা বেগম বলেন, আগে দুপুর ১২টার দিকে রান্না বসালে বেলা একটা থেকে দেড়টার মধ্যে রান্না শেষ হয়ে যেত। এখন আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ গ্যাসও পাওয়া যায় না। দুই চুলা একসঙ্গে জ্বালানো যায় না। একটি চুলা বন্ধ রাখলে অন্যটিতে কিছুটা গ্যাস আসে। এ কারণে সকালের নাশতা শেষ করেই সকাল ১০টার দিকে দুপুর ও রাতের রান্না শুরু করতে হয় বলে জানান ফাহিমা।
গ্যাসের সংকট তাঁর পরিবারের সকালের খাবারের অভ্যাসও বদলে দিয়েছে। বলেন, ‘সকালে ছেলের বাবা পান্তা খায়। তাই অফিসে যাওয়ার আগে স্বামীর নাশতা নিয়ে ঝামেলা হয় না। গ্যাসের সমস্যা হওয়ার পর থেকে ছেলেও এখন বাবার সঙ্গে পান্তা খাওয়া শুরু করছে।’
সদর উপজেলার আওতাধীন শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় চলছে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট। শহরের দেওভোগ, কাশিপুর, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, শহীদ নগর, নলুয়াপাড়া, ভূঁইয়ারবাগ, চাঁনমারী, ইসদাইর, মাসদাইর, পশ্চিম মাসদাইর, জামতলা, দাতা সড়ক প্রভৃতি এলাকায় গ্যাস সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কাশীপুর, মাসদাইর, বাড়ৈভোগ ও বিসিক শিল্প নগরীর আশপাশ এলাকায়। এসব এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না বললেই চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর ও শহরতলীর কোন কোন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা। রাতেও গ্যাসের পরিমাণ অনেকটা কমে আসে।
এভাবে বিভিন্ন এলাকাতে গ্যাস সংকটের কারণে অনেকে ভীষণ দুর্ভোগ পোহচ্ছেন। আর উপায় না পেয়ে অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মাটির চুলো কিংবা স্টোভ দিয়ে রান্নার কাজ করছে। অন্যদিকে গ্যাসের বৈধ সংযোগ দেয়া হয়না বলে জেলার বিভিন্ন এলকাতে অবৈধ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে করে গ্যাস সংকট ধীরে ধীরে আরো তীব্র হচ্ছে। দফায় দফায় মোবাইল কোর্টের হানা সত্ত্বেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ হচ্ছেনা। এ নিয়ে স্থায়ী কোন সমাধানে আসতে পারছেনা বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
দেওভোগ এলাকার ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত অনেক বছর ধরেই গ্যাস সংকটে আমরা ভুগছি। এমপি-মেয়র সবাই আছে তবুও এই সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। সবাই যার যার মত রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে শুধু গ্যাস বিল বাড়ায় কিন্তু কেউ আমাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেনা। গ্যাস নাই তবু গ্যাস বিল নিচ্ছে।






































আপনার মতামত লিখুন :