নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের যেন প্রশমন হচ্ছে না। আইনজীবীদের মধ্যে এখনও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ২০ দিন ধরেই তালাবন্ধ রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের চেম্বার। অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এখনও তিনি বসতে পারছেন না। সেই সাথে আদালতের বিচারকি কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারছেন না।
নিয়োগপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া কবে থেকে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আদৌ কি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে আইনজীবীরাও তাকে কোনোভাবেই মেনে নিবে বলে মনে হচ্ছে না।
আদালপাড়া সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়রা আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৫ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া। আর এই নিয়োগের পর থেকেই আদালতপাড়া আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা যেন থামছে না। আনইজীবীরা কোনোভাবেই নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে কোনোভাবেই মেনে নিতে চাচ্ছেন না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, আমাদের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা সিনিয়র আইনজীবী। তিনি আমাদের বিএনপি দলীয় একজন ত্যাগী আইনজীবী। তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি যতদিন কোর্ট পরিচালনা করেছেন ততদিন সুন্দরভাবে পরিপক্ষভাবে কোর্ট পরিচালনা করেছেন। তিনি আমাদের দলের ভাবমূর্তি এবং আইনজীবীদের ভাবমূর্তি রক্ষা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আর এখন যাকে করা হয়েছে তিনি এই বারের সদস্য না। তার ভোট দেয়ার ক্ষমতা নেই। এই অবস্থায় তার পিপি হওয়ার যোগ্যতা হয়নি। আমরা তাকে অনুরোধ করবো সে যেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। অন্যথায় আইনজীবীরা যা করার সেটা করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন বলেছিলেন, আইনজীবী সমিতিতে একটা সরকারী পোস্ট নিতে হলে তার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে; তার পরিচিতির দরকার আছে। আইন পেশায় অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। হঠাৎ করে আমরা যাকে দেখলাম একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকরা কালিন সময়ে আমাদের অজান্তে তার নাম এসেছে। আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানাই এবং তীব্র বিরোধীতা করি।
তবে এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া বলেন, সরকার আমাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সরকারই আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবে। যখন কেউ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন তখন তাকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকে। তেমনি আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন। অনেকেই অনেক কিছু বলছেন।
এদিকে সুমন মিয়া সম্পর্কে আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামীলীগের প্রয়াত আইনজীবী সুলতানুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘদিন আইনজীবী সহকারী অর্থাৎ মুহুরী হিসেবে কাজ করতেন সুমন মিয়া। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সকল সিনিয়র আইনজীবীদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে বারের মুহুরী আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করবেন তাকে এই বারে আইনজীবী হিসেবে সদস্য পদ দেয়া হবে না।
সেই হিসেবে মুহুরী সুমন মিয়া ২০১৪ সালে আইনজীবী হলেও তাকে নারায়ণগঞ্জ বারে সদস্য পদ দেয়া হয়নি। সুলতানুজ্জামানের মুহুরী থেকে আইনজীবী হওয়ার সুবাধে এই বারেই সদস্য পদ ছাড়াই আইন পেশা চালিয়ে আসছিল সুমন মিয়া। একই সঙ্গে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে মিটিং মিছিল করেও আওয়ামীলীগের আমলে নিজের সদস্য পদ নিতে পারেননি সুমন মিয়া। একই সঙ্গে শরীয়তপুরের সন্তান সুমন মিয়া ভিন্ন জেলার হওয়ার কারনেও তাকে সদস্য পদ দেয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট পরবর্তীতে সুমন মিয়া নিজেকে বিএনপিকে বানিয়ে ফেলেন। বিএনপির আইনজীবীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে আওয়ামীলীগের আইনজীবীদের গালিগালাজ করতে থাকেন, কোর্টে বিভিন্ন আওয়ামীলীগ আইনজীবীদের চেম্বারে বিএনপির আইনজীবীদের সঙ্গে হানা দিতেও দেখা যায়। হঠাৎ করেই যেন সাচ্চা বিএনপি হয়ে যান সুমন মিয়া। সেই সাথে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদও নিয়ে নেন। তবে আইনজীবী সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ তিনি তথ্য গোপন করে সদস্য হয়েছেন।


























-20260912144331.jpg)









আপনার মতামত লিখুন :