News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বুলবুল, নাসির ও গণি হত্যার শাস্তি দাবি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম বুলবুল, নাসির ও গণি হত্যার শাস্তি দাবি

নারায়ণগঞ্জে তিন থানায় তিনটি প্রকাশ্যে খুনের ঘটনাকে দ্রুত বিচার ব্যবস্থায় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। ইতোমধ্যে হত্যা ঘটনায় পুলিশের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করলেও বিচার ব্যবস্থা ফাঁকে জামিন যেন না পায় সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে প্রকৃত হত্যাকারীরা দেশের আইনের সর্বোচ্চ রায় যেন হয়।

গত মে মাসে আড়াইাজার ও ফতুল্লায় দুইটি এবং বন্দরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় রীতিমত নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তিনটি হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক ও লিংক রোডে অবরোধ করেছেন। এ সময় নিহত বুলবুল, নাসির উদ্দিন ও ওসমান গণি স্বজনরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। এদিকে তিন হত্যা মামলায় রহস্য উদঘাটন করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত সময়ে চার্জশিট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

গত ২০ আগষ্ট শুক্রবার রাতে বন্দর সালেহনগরে রিক্সা গ্যারেজে হামলা ঘটনায় মামলা করার জের ধরে বুলবুলকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে সিফাত বাহিনী প্রধান শেখ সিফাত। এ ঘটনার জের ধরে সড়ক অবরোধ করে দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি জানান ইসলামী আন্দোলন। যুব আন্দোলনে নেতা-কর্মীরা সড়ক বন্ধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।

অন্যদিকে সারারাত অভিযান চালিয়ে নবীগঞ্জ থেকে শেখ সিফাতকে সহ নারী-পুরুষ এগারো জনকে গ্রেপ্তার করে বন্দর থানা পুলিশ। এরপরও ২১ আগষ্ট এ হত্যার প্রতিবাদে সকাল নয়টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। দেড় ঘন্টা অবরোধের পর বেলা পৌনে এগারোটার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় 'কিশোর গ্যাং লিডার' শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।

এদিকে ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকায় গত ১৪ মে ফ্রেন্ডস কেব্ল কার্যালয়ে ভিতরে ডিস ব্যবসায়ী মোঃ নাসির উদ্দিনকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় শরীফকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাঁর স্ত্রী। নাসিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে একাধিকবার সড়ক অবরোধ করেন স্বজনরা ও এলাকাবাসী।

হত্যাকারী শরিফ নিজেই আদালতে আত্মসমপর্ণ করে আত্মগোপনে থাকেন। এক সময়ে মামলা হাজিরা দেয়া সময় শরিফকে আদালতে গণধোলাই দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে রিমান্ড শুনানির জন্য আসামি শরীফকে আদালতে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরে নিহত নাসিরের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে লক্ষ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে আদালতের দরজার সামনে শরীফ মাটিতে পড়ে গেলে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নাসির হত্যা মামলার আসামিদের প্রতি এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। শরীফকে আদালতে দেখে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অন্যদিকে এক সপ্তাহে ব্যবধানে আড়াইহাজারে জমির মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দিবাগত রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া বিলসংলগ্ন কাউন্দার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে সকাল থেকে নিহত ব্যক্তির স্বজন ও এলাকাবাসী পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ চারজনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, ২১ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসমান গণি তাঁর পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার কাউন্দার চক এলাকায় তাঁর মাটি কাটার জায়গা দেখতে যান। সেখান থেকে আসার সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জন লোক অস্ত্রের মুখে তাঁদের পথ রোধ করে। দুর্বৃত্তরা ওসমান গণিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলাদা করে ফেলে। একপর্যায়ে তাঁকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুজনকেও মারধর করা হয়। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বিএনপি নেতাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওসমান গণির সহযোগী রায়হান বলেন, মাটি কাটায় নিযুক্ত শ্রমিকদের খাবার রুটিকলা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসার সময় মুখোশ পরা একদল লোক অস্ত্রের মুখে ঘেরাও করে ফেলে। আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখে সন্ত্রাসীরা ওসমান গণিকে কুপিয়ে জখম করে।

পুলিশ জানায়, ওসমান গণির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও সমর্থকেরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে। অভিযান চালিয়ে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীসহ তাঁর সহযোগী সোলায়মান, সুমন ও রমজান মিয়াকে আটক করে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ওসমান গণি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পাশের দুপ্তারা ইউনিয়নের চকের জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীসহ অন্য নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকা- ঘটেছে।