News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্দরে ২ মাসে ৪ হত্যাকাণ্ড


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম বন্দরে ২ মাসে ৪ হত্যাকাণ্ড

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দুই মাসের ব্যবধানে (২৪ জুন থেকে ২০ আগস্ট) চারটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।

অপরাধপ্রবণতার বৃদ্ধি, কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া বিস্তার এবং মাদকের সহজলভ্যতাকেই এসব নৈরাজ্যের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাভিত্তিক সচেতন মহল।

২৬ জুন মুছাপুর ইউনিয়নের কুলচর এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে নির্মম মারধরের শিকার হন আব্দুল মোতালিব (৬৪)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মূল আসামি মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার হলেও এজাহারভুক্ত ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

৪ জুলাই নিখোঁজের ছয় দিন পর তালতলা এলাকার একটি ডোবা থেকে মাছুম রানার (৩৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্বশত্রুতার জেরে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় রাসেল ও জুম্মন নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৬ আগস্ট শুভকরদী এলাকায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৫ আগস্ট রাতে ডালিমকে (৩৬) প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত হাবিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

২০ আগস্ট সালেহনগর এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বুলবুলকে। কিশোর গ্যাং ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটা এই হত্যাকা-ে পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাতসহ তার বাহিনীর ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, বন্দর একটি ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় অপরাধের মাত্রা কিছুটা বেশি মনে হলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে বলে পুলিশ মনে করছে না। সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ ১১ জন গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে পুলিশের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের মতে, অপরাধ ঘটার পর আসামি গ্রেপ্তার করলেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মেলে না। এলাকাভিত্তিক অপরাধচক্র, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের আখড়াগুলো স্থায়ীভাবে গুঁড়িয়ে দিতে নিয়মিত পুলিশি অভিযান অত্যন্ত জরুরি। দৃশ্যমান নজরদারি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব।