News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

দাঁড়িপাল্লার জোয়ার চায় জামায়াতে ইসলামী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম দাঁড়িপাল্লার জোয়ার চায় জামায়াতে ইসলামী

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জামায়াত জোটের প্রার্থীতা নিয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটছে না। তাদের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী কে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা নিশ্চয়তায় পৌঁছাতে পারছেন না। ভোটের মাঠে একের অধিক প্রার্থীই সরব রয়েছেন এবং তাদের অনুসারীরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া সংবাদ সম্মেলন করে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও তার অনুসারীরা ভোটের মাঠে ঠিকই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে জামায়াত জোটের সমর্থিত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাজানের অনুসারীরাও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সবশেষ ৩১ জানুয়ারি সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণমিছিল ও জনসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন মাহমুদ। মিছিলটি মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা করা হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, জাতীয় নেতাদের টেবিলে নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের প্রার্থী ছিনতাই হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৩ তথা সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষের মতামত ও চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে গভীর চক্রান্ত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

বক্তারা বলেন, প্রার্থী নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র চক্রান্ত হলেও ব্যালট পেপারে আমাদের পছন্দের প্রতিক দাঁড়িপাল্লা রয়েছে। সুতরাং মানুষ ১২ তারিখ সারাদিন ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবে। দাঁড়িপাল্লা আজকে শুধুমাত্র একটি দলের প্রতিক নয়, এটি এখন জনতার প্রতীক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে। বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাজানকে সমর্থন দিয়ে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি আমি ভোটের মাঠ থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছি। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান শিবলী। আমরা সকলে মিলে ঐকবদ্ধভাবে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন বলেন, এটা আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত; তাই আমরা নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছি। যেহেতু ব্যালটে দাড়িপাল্লা প্রতিক থেকে যাবে এক্ষেত্রে জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে জনগণই সিদ্ধান্ত দিবে।

তবে সংবাদ সম্মেলন করে সড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া অনুসারীরা এই বিষয়টিকে মেনে নিচ্ছেন না। তারা এ নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।

তার অনুসারীদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া নির্বাচন থেকে সরে গেলেও ব্যালট পেপার থেকে তার প্রতিক দাড়িপাল্লা সরে যাবে না। দাড়িপাল্লা যেহেতু ব্যালটে থেকে যাচ্ছে আমরা দাড়িপাল্লাতেই ভোট দিবো। আমরা দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রাথী ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়ার বিপরীতে নানা অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারবো না। আমরা দাড়িপাল্লা প্রতিকেই ভোট দিবো।’ আর অনুসারীদের এসকল বক্তব্য নিয়ে ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া ও মো. শাহাজানের মধ্যে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

তার আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট তারিখে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। ফলে নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়া ঘোষণা দিলেও ব্যালট পেপারে তার দলীয় প্রতিক রয়ে যাবে। ব্যালট পেপার থেকে তার দলীয় প্রতীক সরানোর কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামী আবেদন করেও ব্যালট পেপার থেকে প্রতীক সরাতে পারেনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন এলাকায় বেশ জনপ্রিয় অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত নেতা ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া। তার এই জনপ্রিয়তার কথা শুধু নিজ দলীয় নয় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের মুখেও প্রচলন রয়েছে।

গত ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনয়ন ঘোষিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন পরিবর্তন করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন দলীয় সাত মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের এই আবেদনেও বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল তাদের দলীয় প্রার্থী যাকে দিয়েছে সে স্থানীয় সুনামধন্য কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল ড. মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দলীয় বঞ্চিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই স্বীকৃতি দিয়েছেন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া যোগ্য প্রার্থী।