নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ‘অশিক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে প্রথম প্রচারণা তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। বিএনপির সাবেক এই এমপি গত বছর ৩০ ডিসেম্বর বহিস্কার হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীতার কারণে।
এবার গিয়াসউদ্দিনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ড গণসংযোগ শেষে বক্তব্যে ‘দলীয় নেতা-কর্মীদের’ মীরজাফর আখ্যা দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। ৩১ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ প্রচারণায় তিনি বলেন, যেসব বিএনপির নেতাকর্মী দিনের বেলায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে থাকেন, আর রাতের আঁধারে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেন, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান, না হলে আপনাদের পতন অনিবার্য। এ ধরনের ব্যক্তিরা কখনোই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক হতে পারে না। এমন মীরজাফরদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই। সাধারণ মানুষও তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।
একই সাথে মান্নান আরও বলেন, ধানের শীষের বিজয় হলে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের বিজয় হবে। গত ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমরণ আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে হবে।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন প্রথম প্রচারণায় সিদ্ধিরগঞ্জে জ্বালাময়ী দেন। তিনি বলেন, আমার দলের প্রতীককে ভোট দিবো-খুব ভালো খুব সুন্দর। সাত ব্যক্তি তার দলের নিবেদিত থাকা পরে ‘অশিক্ষিত’ ব্যক্তিকে-মানুষ বলে। মানুষ বলে আমি বলি না- সেখানে নাকি গিভেন টেক হয়েছে তার জন্য দেয়া হয়েছে, আমি বলি না। সংসদে যায় কেনো একজন পালামেন্ট মেম্বার, তার কাজ কি আইন প্রনায়ন করবে। কে করবে শিক্ষিত মানুষ না টিপ সই করা মানুষ। সংসদে মুখ্যদের দিয়ে চলবে-অসম্ভব। সেখানে শিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে দেশের কল্যাণ কাজ করতে পারে। ওই পালামেন্টে বাজেট প্রণায়ন করতে পারবে-শিক্ষিত মানুষ। আজকে অনেকে বলেন প্রতীককে ভোট দিবেন। প্রতীক ধুয়ে কি পানি খাবেন।
তার এমন বক্তব্যে রাতেই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির ২০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহসভাপতি জি এম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, থানা বিএনপির সদস্য শামিম আহম্মেদ ঢালি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলী আইয়ুব, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল প্রধান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জা, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহসভাপতি পনির হোসেন এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক। এর মধ্যে বহিষ্কৃত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহসভাপতি জি এম সাদরিল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
এর আগে রাতে ২৮ জানুয়ারি বহিষ্কার করা হয় সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহীদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আপেল, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলুকে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। বহিষ্কৃত নেতারা কাজ করছিলেন দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। ৩০ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়। ২১ জানুয়ারি বহিষ্কার করা হয় আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিমকে।

































আপনার মতামত লিখুন :