News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

নারায়ণগঞ্জে ফেরার ইঙ্গিত আওয়ামী লীগের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম নারায়ণগঞ্জে ফেরার ইঙ্গিত আওয়ামী লীগের

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় নীরব থাকা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শপথ গ্রহণের পরদিনই ফের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনের ছয় দিন পর এবং শপথ নেওয়ার পরদিন শহরের ২ নম্বর রেলগেইট এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে সংক্ষিপ্ত স্লোগান এর মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইলেও জনরোষের আশঙ্কায় মুহূর্তেই সরে যান তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কয়েকজন যুবলীগকর্মী হঠাৎ করে কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তারা এক মিনিটেরও কম সময় স্লোগান দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ব্যানারটি ঝুলিয়েই চলে যান তারা। এলাকাবাসীর ধারণা, মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশের অনুসারীরাই এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সরকার পতনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য কোনো বড় কর্মসূচি দেখা যায়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিনও দলটির নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন না। বরং শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মতো কর্মসূচিতে সরব ছিল প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শপথ গ্রহণের পরদিনের এই সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল মূলত একটি ‘সিগন্যাল’ দল পুরোপুরি নিস্তেজ নয়, তা বোঝানোর চেষ্টা। তবে মাঠে শক্ত অবস্থান নেওয়ার মতো প্রস্তুতি বা জনসমর্থনের প্রকাশ এ কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।

দলীয় সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার ও মামলার আশঙ্কায় অধিকাংশ শীর্ষ ও মাঝারি পর্যায়ের নেতা আত্মগোপনে আছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়ার অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি। ফলে সাংগঠনিকভাবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে দলীয় কার্যালয়গুলোও অধিকাংশ সময় বন্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একসময় যে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী বড় মিছিল যেত, সেই জেলাতেই এখন দৃশ্যত সাংগঠনিক শূন্যতা। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে এই পরিস্থিতিতে কে নেবে দলের হাল।

রাজনৈতিক ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দলীয় বড় কর্মসূচিতে জেলার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে কোনো কার্যকর পুনর্গঠন সম্ভব নয়। বিচ্ছিন্নভাবে ব্যানার টানানো বা আকস্মিক মিছিল রাজনৈতিক শক্তি পুনরুদ্ধারে তেমন প্রভাব ফেলবে না। বরং এতে দলীয় ভেতরে বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, মামলাজট নিরসন এবং স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়া আওয়ামী লীগের মাঠে ফেরা কঠিন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো এখন সংগঠিত ও প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ এখন কঠিন এক সন্ধিক্ষণে। শপথ গ্রহণের পরদিনের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি হয়তো একটি বার্তা, কিন্তু সেটি কতটা বাস্তব শক্তিতে রূপ নেবে তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত নেতাকর্মীদের বড় অংশই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন; রাজনৈতিক ময়দানে পূর্ণ প্রত্যাবর্তন এখনো তাদের জন্য অনিশ্চিত স্বপ্ন।