নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মানচিত্রে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই এসেছে নতুন নেতৃত্ব। ভোটের লড়াই শেষ, এখন শুরু প্রত্যাশার পালা। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এ জেলার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট, পরিবেশ দূষণ, দখল বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাই নবনির্বাচিত পাঁচ সংসদ সদস্যের দিকে এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (দিপু) ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারই প্রথম সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলেন দিপু। রূপগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা দ্রুত নগরায়ণের চাপে অবকাঠামো ও সেবাখাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে তিনি কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতিতে যুক্ত আজাদও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সড়ক, সেচব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এগুলোই স্থানীয়দের প্রধান দাবি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির আজহারুল ইসলাম (মান্নান)। তিনি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন। শিল্প ও আবাসিক এলাকার মিশ্র এই আসনে পরিবেশ দূষণ, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বড় ইস্যু। মান্নানের কাছে সেসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান আশা করছেন ভোটাররা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার একাংশ) আসনে ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তরুণ এই রাজনীতিকের বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বয়সে সর্বকনিষ্ঠ এই এমপির কাছে নগর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, যানজট নিরসন এবং চাঁদাবাজি দমনে দৃশ্যমান প্রদক্ষেপের প্রত্যাশা বেশি।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দক্ষতার সমন্বয়ে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন তাঁর এলাকার বাসিন্দারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই তুলনামূলক নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের উপস্থিতি লক্ষণীয়। ফলে সংসদে জেলার প্রতিনিধিত্বে আসতে পারে নতুন ভাবনা ও কর্মপরিকল্পনা। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু একই সঙ্গে রয়েছে নদীদূষণ, অবৈধ দখল, সড়কের বেহাল অবস্থা ও নাগরিক সেবার ঘাটতি। ভোটারদের ভাষ্য, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিত উদ্যোগ নিলেই কেবল এ সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
নির্বাচনের উত্তাপ থেমেছে, শুরু হয়েছে প্রত্যাশার সময়। এখন দেখার বিষয় নতুন পাঁচ এমপি কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নারায়ণগঞ্জবাসীর আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন।


































আপনার মতামত লিখুন :