News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরেই স্পর্ধা দেখালো আওয়ামী লীগ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১১:০২ পিএম বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরেই স্পর্ধা দেখালো আওয়ামী লীগ

দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতার পালাবদলের পরদিনই নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে তৎপরতা দেখিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও আলোচনা। বিষয়টিকে বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। 

গত মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একদিন পর বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙিয়ে প্রকাশ্যে স্লোগান দিতে দেখা যায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের। যা দেখে অবাক হন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল সরকার পরিচালনা করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সেসময়ও এভাবে প্রকাশ্যে আসার সাহস পায়নি আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে দুই তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট পেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তাদের সামনেই সাহস দেখালো আওয়ামী লীগ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন যুবলীগ কর্মী ২ নম্বর রেলগেইট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে দলীয় ব্যানার ঝুলিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং শিগগিরই সংগঠিতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরবেন। দলীয় স্লোগান দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই পালিয়ে যায় তারা। অন্যদিকে থেকে যায় তাদের ঝুলিয়ে রাখা ব্যানার। দীর্ঘক্ষণ পরে তাদের প্রকাশিত ভিডিও ভাইরাল হলে বিএনপির সমর্থকরা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। 

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, কিছু কিছু নেতাদের অতি উদারতা এবং আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য তাদের নানান আশ্বাস দেয়ার কারনেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মীরা এমন স্পর্ধা দেখানোর সাহস পেয়েছে। একাধিক নেতা বলেন, “সরকার যদি শুরুতেই কঠোর অবস্থান না নেয়, তাহলে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। সেই সাথে শক্তি নিয়ে ফেরার সাহস পাবে আওয়ামী লীগ। যারা বছরের পর বছর মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছে।” 

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর স্থানীয় নেতারাও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় সমালোচনা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীদের। তারা বলছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার কারনেই এই স্পর্ধা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেতাকর্মীরা নানান স্থানে তাদের আশ্রয় দিয়ে এলাকায় ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও আইনি প্রয়োগ না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। আর সেটার ভুক্তভোগী হবে খোদ বিএনপি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর মাঠপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ বিগত সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সর্বাধিক হরতাল দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছিলো। সেই সাথে তাদের হরতাল ছিলো অত্যান্ত সহিংস এবং প্রাণহানীকর। তাদের কারনে বিএনপি সরকার ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। ফের যদি আওয়ামী লীগকে ফেরার সুযোগ করে দেয়, তাহলে এর ফল ভোগ করতে হবে বিএনপিকেই। ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় জেলায় আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গণে উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।