নারায়ণগঞ্জ নগরবাসীকে দুর্ভোগ মুক্ত করতে নতুন করে আশা জেগেছে। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে নগরবাসী কল্যাণে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। দুইজন জনপ্রতিনিধি একত্রে এবার শহরের যানজট, হকার সমস্যা নিরসন ছিনতাই প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে দেখা যাবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকেরা।
দুইজন বিএনপি শীর্ষ নেতা এমপি ও সিটি প্রশাসক একত্রে কাজ করার আগ্রহ রয়েছেন বলে মন্তব্যে করেছেন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি বলেছেন, আবুল কালাম ও সাখাওয়াত হোসেন খানের ইচ্ছা রয়েছে নগরবাসী কল্যাণে কাজ করার। আমি আমরা সবাই তাদেরকে চিনে জানেন। মানুষের কল্যাণে দুইজন একত্রে কাজ করবেন এটা সকলের প্রত্যাশা। দুইজনের মন মানসিকতায় রয়েছে শহরের যানজট, হকার সমস্য ও ছিনতাই প্রতিরোধ করতে। একই সাথে শহর বন্দরের নাগরিক সমস্যাগুলো তার সমাধান করবেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের ঘোষনায় সাখাওয়াত হোসেন খান প্রতিক্রিয়া বলেন, বিএনপিতে আমার স্বচ্ছ কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। জনাব তারেক রহমান আমাকে যে মূল্যায়ন করেছে, অবশ্যই আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিক নিদের্শনায় জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করবো।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, যানজট ও হকার সমস্যা সমাধান থাকবে প্রথম চ্যালেঞ্জ। শহর বন্দরের সমস্যাগুলো আমি নিজেই ভুক্তভোগী। এগুলো দ্রুত সময়ে সমাধানে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।
ব্যস্ত নগরী নারায়ণগঞ্জ এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য ও ফুটপাত দখলে ব্যাহত হচ্ছে সড়কের শৃঙ্খলা। কোথাও কোথাও চোখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের জটলাও। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিটি করপোরেশনের ধীরগতির ড্রেনেজ সংস্কার কার্যক্রম। সব মিলিয়ে এখন চরম দুর্ভোগে নগরবাসী। নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কগুলো থমকে থাকে দীর্ঘ যানজটে। অবাধে ইজিবাইকের চলাচলে বাড়ছে বিড়ম্বনা। শুধু সড়কে নয়, ফুটপাতেও নেই স্বস্তি, চলে গেছে হকারদের দখলে। এ বিড়ম্বনার সঙ্গে বাড়তি যুক্ত হয়েছে সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার কাজের ধীরগতি। খোঁড়াখুঁড়ি করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সড়ক। এতে তৈরি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ব্যস্ত সড়কের এ চিত্র গড়ায় রাত পর্যন্ত।
পথচারীরা জানান, রাস্তায় চলাচলে সময় অনেক কষ্ট হচ্ছে। আর ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ সংস্কার শেষ করা, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি নগরবাসীর।


































আপনার মতামত লিখুন :