নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এই নিয়োগ দিয়ে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আর এই নিয়োগে বিএনপির নেতাদের এবার নজর পড়েছে জেলা পরিষদের প্রশাসকে।
আলোচনায় থাকা বিএনপি নেতারা জেলা পরিষদের নির্বাচনের আগে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই জোরালোভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় থাকা নেতারা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছেন প্রশাসককে ঘিরে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিএনপির রাজনীতিতে যাত্রা শুরু হয়েছিলো একেবারেই শূন্য থেকে। সেই শূন্য থেকে একের পর ধাপ পেরিয়ে বিএনপি রাজনীতিতে তিনি দাপুটে অবস্থান করে নেন। প্রত্যেকটি ধাপেই ছিলো তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলীর অনন্য পরিচয়।
তারই ধারাবাহিকতকায় এবার তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ ক এর উপধারা (১) অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা তাদের সিটি করপোরেশনগুলোতে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।’
এদিকে সাখাওয়াত হোসেন খানের এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে আলাপ আলোচনা সরগরম হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তার ত্যাগ তীতিক্ষা নিয়ে আলাচনা হচ্ছে। সেই সাথে বিএনপির অনেক নেতা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুম মাহমুদ। তাদের সাথে নতুন করে আলোচনায় আসার চেষ্টা করে যাচ্ছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান সহ আরও অনেকেই।
তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মতো জেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। কেউ কেউ মনে করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মতো জেলা পরিষদেও প্রশাসক করা হতে পারে। আর তাই নির্বাচনের আগে প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আলোচনায় থাকা নেতারা।
সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষমতায় থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে। সেই সাথে তারা আন্দোলন সংগ্রামেও অংশ নিতে পারতেন না। ব্যবসা বাণিজ্যেও নানাভাবেই বাধার শিকার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিলো না।
এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলাপ আলোচনা শুরু হয়। সেই সাথে অনেকেই সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীতার আশা করেন। কিন্তু বিএনপি দলীয় মনোনয়ন মিলেনি তাদের।
এদিকে সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অনেকেই সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাকী থাকা নেতারা বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে আসার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


































আপনার মতামত লিখুন :