News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

বহিষ্কার-পরাজয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে তারা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:১২ পিএম বহিষ্কার-পরাজয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে তারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বিএনপির একাধিক সাবেক এমপি ও প্রভাবশালী নেতার পরাজয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার ভরাডুবি শুধু নির্বাচনী ফলাফলের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে পরিচিত মুখ ছিলেন আতাউর রহমান আঙ্গুর। একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই নেতা এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। কিন্তু প্রত্যাশিত জনসমর্থন পাননি। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা এবং সংগঠনের ভেতরে বিভক্তির প্রভাব তার ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও দেখা যায় একই চিত্র। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম। একসময় জেলা রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতারা এবার ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একই আসনে একাধিক শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট বিভাজনের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি দলীয় প্রতীক ছাড়া সাংগঠনিক সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট। একই আসনে মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ১১ হাজার ৩২৮ ভোট। দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুই জায়গাতেই জামানত হারানো গিয়াস উদ্দিনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করেছে। প্রথমত, দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সংগঠনের বড় অংশ দূরে সরে যায়। দ্বিতীয়ত, বর্তমান সময়ে ভোটারদের কাছে দলীয় প্রতীকের গুরুত্ব আগের চেয়ে বেড়েছে। তৃতীয়ত, তরুণ ভোটারদের একটি অংশ নতুন মুখ ও বিকল্প নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ক্ষমতার বাইরে থাকা নেতাদের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।

এই ফলাফল সংশ্লিষ্ট নেতাদের জন্য কেবল পরাজয় নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কৌশল যে ঝুঁকিপূর্ণত্মতা এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছে।

এখন প্রশ্ন, বহিষ্কার ও ভরাডুবির পর এসব নেতা কি আবার দলীয় রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজবেন, নাকি স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখবেন তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক সময়ের প্রভাবশালী নেতাদের অবস্থান এখন অনিশ্চয়তার মুখে, আর নতুন সমীকরণই হয়ে উঠছে আগামী দিনের রাজনীতির চালিকাশক্তি।