নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান অবশেষে পাচ্ছেন মূল্যায়ন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থেকে বারবার আলোচনায় আসা এই নেতা এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টিকে দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
আইনজীবী হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খান সর্বাধিক আলোচনায় আসেন বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সাত খুন মামলা-এর বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। মামলাটি সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সে সময় আদালতে দৃঢ় অবস্থান ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৬-এ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাখাওয়াত হোসেন খান। ওই নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী-র বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত আইভীর কাছে পরাজিত হলেও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তাকে আলোচনায় রাখে।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা মেনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন তিনি। দল যখন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন ব্যক্তিগত অবস্থান বা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেন। এর পরপরেই মহানগর বিএনপির আহবায়ক পদ লাভ করেন। যদিও বিদ্রোহীরা একপ্রকার কোনঠাসা করে রাখলেও শক্ত হাতে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন সাখাওয়াত।
সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হননি। বরং প্রকাশ্যে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, “দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা, নির্দেশনা মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলকে বড় করে দেখার কারণেই আজ তিনি মূল্যায়িত হচ্ছেন। যেই কারনে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতেই প্রথমেই তাকে বাছাই করে নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এটি শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়, বরং দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার একটি বার্তা। দলের প্রতি অনুগত থাকলে দল মূল্যায়ন করে সেটার উদাহরণ তৈরি করেছে বিএনপি। যার অন্যতম উদাহরণ সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে ইতোমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা এটিকে অনুগত নেতৃত্বের প্রাপ্য সম্মান হিসেবেই দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে নগরবাসীর প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন খান।


































আপনার মতামত লিখুন :