নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় বক্তাবলী রাজাপুর ঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষের ঘটনা এখন পুরো ফতুল্লায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু| বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মীদের প্রতিরোধে বিএনপির নেতাকর্মীদের পালিয়ে যাবার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র| ফুঁসছে বিএনপির নেতাকর্মীরা| সেই সাথে বিএনপির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে এনসিপির শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার বিষয়টিও সামনে উঠে আসছে|
গত ২১ এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলায় ঘাটের দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাঁধে| জানা যায়, এই ঘাটের ইজারা নিতে আগে থেকেই আপোষ করতে আগ্রহী ছিলো বিএনপির নেতাকর্মীরা| তারা নানান ভাবে আপোষের প্রস্তাব দেয় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছে| কিন্তু এনসিপি শেষ পর্যন্ত কোন আপোষ করবে না জানিয়ে উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেয়| এসময় বাঁধা দেয় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান ও তার নেতাকর্মীরা|
শুরুর দিকে জামায়াতের দুজন অনুসারী দরপত্র জমা দিতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় বিএনপির নেতাকর্মীরা| মারধর করা হয় এনসিপি নেতা তাওহীদ ও জামায়াতের ইউনিয়ন আমীর আবু বকরকে| মারামারির কারণে জামায়াতের দুজন অনুসারী দরপত্র জমা না দিয়েই ফিরে যায়| তবে এনসিপির দুজন কর্মীর মধ্যে একজন ঠিকই জমা দিয়ে আসেন দরপত্র|
তবে সেই ঘটনার জের ধরে দ্বিতীয় দফায় ফের সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি ও এনসিপি| এসময় এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপি কর্মীদের মারধর করে উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে তাড়িয়ে দেয়| সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে| রটে যায় যে এনসিপির হাতে মার খেয়ে পালিয়েছে বিএনপি কর্মীরা| ক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীদের কয়েকজনকে এই ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিতে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে|
এদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির বাধা ও মারধরে সরে গেলেও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে এনসিপি| যেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে ফতুল্লা জুড়ে| বিএনপির একাংশের কর্মীরা বলছেন, দলের ভেতর ঐক্য না থাকা এবং অপরাজনীতিতে জড়িয়ে যাবার কারনেই বিরোধী দলে থাকা এনসিপি শক্তিশালী হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে| সেই সাথে ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির কিছু কর্মীরা ক্রমেই নেতিবাচক কাজ করে যাওয়ায় জনসমর্থন হারাচ্ছে ধীরে ধীরে|
অন্যদিকে বিএনপির সমালোচকরা বলছেন, নিজেদের কর্মকান্ডের কারনেই প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বিএনপি কর্মীরা| ঘাটের শিডিউলে বাঁধা দিয়ে একদিকে তারা যেমন সমালোচনার শিকার হচ্ছে| অন্যদিকে এনসিপির দ্বারা প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা আরও বেশি নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে সাধারণ মানুষের সামনে| যা বিএনপির ফতুল্লার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক|



































আপনার মতামত লিখুন :