দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপ, নানা সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমিত রাখতে হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে| তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বাস্তবতায় দলটি এখন ধীরে ধীরে নিজেদের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে| আগের মতো প্রকাশ্য বড় কর্মসূচির ঝলক না থাকলেও ভেতরে ভেতরে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ এবং তৃণমূলভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে তারা|
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে জামায়াতের এই নীরব তৎপরতা অনেকের কাছেই নতুন এক বার্তা দিচ্ছে| রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ ˆতরি করেছে| এই সমীকরণের ভেতরেই নিজেদের জন্য সম্ভাবনার জায়গা খুঁজে নিচ্ছে দলটি| জাতীয় পর্যায়ে কাঙি&ক্ষত অবস্থান নিশ্চিত করা এখনও চ্যালেঞ্জিং হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগকে তারা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিচ্ছে| বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে তাদের প্রস্তুতি এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে|
জানা যায়, নির্বাচনী রাজনীতিতে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জামায়াত আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে| সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনত্মএই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে তাদের কর্মপরিকল্পনা| দলটির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতের বড় নির্বাচনগুলোতেও তারা সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারবে|
মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমেও জোর দিচ্ছে জামায়াত| বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে মতবিনিময় সভা, ঘরোয়া ˆবঠক, জনসংযোগ এবং সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে| এতে একদিকে যেমন সংগঠনের ভেতরে নতুন উদ্দীপনা ˆতরি হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকেও যুক্ত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে|
বিশ্লেষকদের মতে, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার তুলনামূলকভাবে সংযত ও নিয়ন্ত্রিত কৌশল গ্রহণ করেছে দলটি| সংঘাত এড়িয়ে চলা, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য থেকে দূরে থাকা এবং জনমুখী ইস্যুগুলোকে সামনে আনার মধ্য দিয়ে তারা একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক ইমেজ গড়ে তুলতে চাইছে| উন্নয়ন, জনসেবা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ রাজনীতির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের দিকেই এখন বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে|
অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে| বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিভাজন বা নেতৃত্ব সংকট যদি বাড়তে থাকে, তাহলে সেই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ ˆতরি করতে পারে এমন হিসাবও করছে জামায়াত| ফলে শুধু নির্বাচনী প্রস্তুতিই নয়, সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং নেতৃত্বের বিকল্প ধারা ˆতরি করার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা|
রাজনৈতিক অঙ্গণের অনেকেরই ধারণা, প্রকাশ্যে খুব বেশি সরব না থাকলেও জামায়াত নীরবে একটি নির্দিষ্ট ভোটভিত্তি ˆতরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে| তাদের এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কতটা ধারাবাহিক থাকে, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা কতটা ˆতরি হয় এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ কোন দিকে যায়|
সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, তাৎক্ষণিক দৃশ্যমানতার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং স্থির অগ্রযাত্রাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে জামায়াত| রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের অবস্থান পুননির্ধারণের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে|



































আপনার মতামত লিখুন :