News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

শহরে গান্ধী পোকার দেখা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:১২ পিএম শহরে গান্ধী পোকার দেখা

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া ব্যক্তিকে গান্ধী পোকা বলে অবহিত করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ। এনিয়ে তোলপাড় তৈরী হয় শহর জুড়ে। গান্ধী পোকা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক যেই রাজনৈতিক দল করেন সেই দলেই কিছু গান্ধী পোকা রয়েছে।

এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও এবার গান্ধী পোকা রূপে দেখা গেলো বিএনপির নির্বাচনী জোটের সহযোগী রাজনৈতিক দল গণসংহতি আন্দোলনের জেলা নির্বাহী সমন্বয়ককে।

২০ এপ্রিল সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের পক্ষে মিছিল বের করা হয় শহরে। মিছিলটি বিবি রোড হয়ে সিটি করপোরেশনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মিছিলের নেতৃত্বে দেখা যায় শ্রমিক নেতা অঞ্জন দাস ও ইকবালকে। দুজনের মধ্যে অঞ্জন দাসকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিশেষত হকার উচ্ছেদের পক্ষে গণসংহতি আন্দোলনের সরব অবস্থান দেখার পর তাদের দলের নেতাকে হকারের পক্ষে মাঠে নামতে দেখে অবাক হন তারা। তীব্র সমালোচনায় ফেটে পড়েন সকলে।

গত ১৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জে সর্বদলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে হকার উচ্ছেদে নামেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। এসময় দেখা গিয়েছিলো গণসংহতি আন্দোলনের নেতা অঞ্জন দাসকে। সেই অঞ্জন দাস এবার হকারদের নিয়ে শহরে আন্দোলন করেছেন। একই দিন এই হকাররা শহরের হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো কর্মীদের উপর হামলা ও মারধর করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনার পুরো দায় বর্তায় হকার ও তাদের আশ্রয় দেয়া নেতাদের উপর।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে তাদের ফুটপাতে বসার সুযোগ করে দেয়ার সাথে জড়িত একাধিক রাজনৈতিক নেতা। তাদের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেই হকাররা ফুটপাতে দাপটের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ পতনের পর চাঁদার টাকারও হাত বদল হয়। গত ২৮ মার্চ সিটি করপোরেশনে আয়োজিত এক বৈঠকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে কথা উঠলে তখন উঠে আসে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি।

সেই সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ বলেন, ‘অতীতে শামীম ওসমান গডফাদার হিসেবে হকারদের শেল্টার দিয়েছেন। তবে বর্তমানে সেই গডফাদার না থাকলেও, প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট দলে ‘গান্ধী পোকা’রয়ে গেছে। তার ভাষায়, এই পোকা যেখানে বসে, সেখানেই ঘা তৈরী করে। এসব গান্ধী পোকা নির্ম‚লে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তবে কে বা কারা সেই গান্ধী পোকা সেই বৈঠকে স্পষ্ট করে বলেননি কেউই। যদিও সেই বৈঠকের সংবাদ প্রকাশ হবার পর মহানগর বিএনপির শীর্ষ এক নেতাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় ফেইসবুকে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। মহানগর বা জেলা বিএনপিতে এত এত নেতা থাকতেও গান্ধী পোকা ইস্যুতে সেই নেতা কেন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

এবার সেই গান্ধী পোকার বাস্তব চিত্র দেখা মিললো রাজনীতির মাঠে। একদিকে হকার উচ্ছেদ অভিযানে সক্রিয় থাকা অঞ্জন দাস। অন্যদিকে হকারদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে নামা অঞ্জন দাস। একই ব্যক্তির একাধিক রূপ দেখে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। সেই সাথে তাকে হকারদের চাঁদা খাওয়া নেতা বলেও সম্বোধন করেছেন অনেকে। দৈনিক চাঁদা বন্ধ হয়ে যাবার কারনেই কতিপয় নেতারা একত্রিত হয়ে হকারদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন। যদিও অঞ্জন দাসের এই অবস্থানকে ব্যক্তিগত অবস্থান বলে জানিয়েছে জেলা গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক তরিকুল সুজন। সেই সাথে গণসংহতি হকার উচ্ছেদের পক্ষে রয়েছে বলেও জানিয়ে দেন তারা।