News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

স্থবির জেলা বিএনপির দলীয় কার্যক্রম


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম স্থবির জেলা বিএনপির দলীয় কার্যক্রম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনী ব্যস্ততা, প্রার্থী বাছাই এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সামাল দিতে গিয়ে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকাÐ অনেকটাই থেমে যায়। মাঠে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝেও তৈরি হয় নিরুৎসাহের আবহ। তবে ঈদুল ফিতরের পর সেই স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এখনো তা দেখা যায় নি।

নির্বাচনের ফলাফল জেলা বিএনপির জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দলের আহŸায়কের দায়িত্ব পাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলের সিনিয়র নেতার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া দুটি ঘটনাও সংগঠনের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে রাজনৈতিক এই সাফল্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আহŸায়ক কমিটির ওপর নির্ভরশীলতা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণে সংগঠনের গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারছেন না, বরং তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত বছরের শুরুতে একটি বড় সমাবেশের মাধ্যমে জেলা বিএনপি আলোচনায় এলেও এরপর ধারাবাহিকভাবে বড় কর্মসূচি দিতে না পারায় সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই মনে করছেন, দলটি ধীরে ধীরে জনসংযোগের জায়গাতেও পিছিয়ে পড়ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। একের পর এক আহŸায়ক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা সংগঠনের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব, নেতৃত্বের টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জেলার রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকলেও সা¤প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইউনিট পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যর্থতা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। সংগঠনের নিচের স্তরগুলো সক্রিয় না থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞ নেতারা।

এই প্রেক্ষাপটে ঈদের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলকে সক্রিয় করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রæত একটি নির্বাচিত ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গতি ফিরে আসবে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অর্জন ও সাংগঠনিক দুর্বলতার মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। এখন প্রশ্ন একটাই নতুন উদ্যমে দলটি কতটা নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারে এবং সেই গতি কতটা স্থায়ী করতে সক্ষম হবে।