২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার আবার গঠনে পরই শহরের ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে প্রতিযোগিতা পড়ে| এতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় হকার সংখ্যা বৃদ্ধি পান| হকার নেতারা অন্যত্র গ্রামে বাসিন্দা হলেও শহর ও আশেপাশে এলাকা বহুতল ভবনের মালিক বনেছে| এমনকি হকার নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক হকার নিহতের ঘটনা হয়েছিলো| যার কারণে হকার ইস্যুতে তৎপর হতে শুরু করেছেন তৎকালীন নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী|
জানা যায়, ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আইভী ফুটপাতে হকারবিহীন নগর গড়ে তোলার ঘোষণা দেন| যার ফলে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়| ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নেতৃত্বে কাউন্সিলর, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক সহ নেতৃবৃন্দরা হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায় কিন্তু উল্টো তাদের উপর হামলা চালায় হকাররা| সফল না হওয়ার পেছনে তৎকালীন বিনাভোটে এমপি শামীম ওসমান ও প্রশাসনিক অসহযোগিতার বিষয়টি সামনে আসে| এমনকি হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১৬ জানুয়ারি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনাও ঘটে| ওই প্রশাসনও চেয়েছিলো হকার মুক্ত শহর গড়ে তোলা কিন্তু এমপিদের বিরোধী অবস্থানে তারা চুপ ছিলেন|
আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপিদের ও মেয়রের মধ্যে বিরোধ থাকায় নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে হকার উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি| বরং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা হকার থেকে অনৈতিক অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে|
এদিকে চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে| যার কারণে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেই এমপি আবুল কালাম শহরের পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা প্রত্যয় করেন| তখনই ২৪ ফেব্রুয়ারি সরকারের নিদের্শনায় সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিয়োগ পান মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান| এরপর থেকে তারা শহরের যানজট ও হকারের বিষয়টি নানাভাবে আলোচনায় আসে|
স্থানীয় এমপি, সিটি প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন একাধিকবার এ বিষয়ে সমাধানে নানা আশ্বাস দেন| যার প্রতিফলনে সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সম্মিলিতভাবে ১৩ এপ্রিল ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেন|
আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার আমলে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অপর নাম ছিলো সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের দখল| হকারদের দৌরাত্ম্যের কারণে ফুটপাত দিয়ে নয়ই সড়ক দিয়েই হাঁটা ছিল দায়| সড়কগুলো হকারমুক্ত করায় নগরবাসীর প্রশংসা ভাসছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান| এর আগেও একাধিকবার হকারমুক্ত ফুটপাত করার উদ্যোগ সফল হয়নি| হকারমুক্ত ফুটপাতের এমন অবস্থা ধরে রাখার দাবিও জানিয়েছেন নগরবাসী|
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিটি প্রশাসক দু’জনই একই দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত| আবুল কালাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন এবং সাখাওয়াত হোসেন খান আহ্বায়ক হিসেবে মহানগর বিএনপিকে বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন| তাছাড়াও, দু’জনই হকার ইস্যুতে একই অবস্থানে আছেন| তারা উভয়ই চান- ফুটপাত হকারমুক্ত থাকুক| শুধু বিএনপিই নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়েও হকার ইস্যুতে একাধিক বৈঠক করা হয়|
অপরদিকে হকার উচ্ছেদে সপ্তাহে প্রতিদিন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, সিটি র্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান| ২৩ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনের একটি সভায় জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও অন্যান্য দপ্তরের লোকজন ছিলেন| সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে- এখন কাপড় বিছায়ে বসে, আর উচ্ছেদের গাড়ি দেখলে চারকোনা গুছিয়ে গলির ভেতরে ঢুকে যায়| গাড়ি চলে গেলে আবার ফুটপাতে এসে বসে| এইটাও যাতে করতে না পারে, সেজন্য গলির ভেতরে গিয়েও ধরা হবে| একই কাজ একাধিক করলে গ্রেপ্তারও করা হবে|




































আপনার মতামত লিখুন :