News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনীতিকদের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনীতিকদের

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিরাপত্তা। একের পর এক সহিংস ঘটনা, প্রকাশ্যে হামলা, অস্ত্র ছিনতাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণ—সব মিলিয়ে নাগরিক জীবনে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই এখন দৈনন্দিন চলাচলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এসেছে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, “যে হামলার ঘটনা সংগঠিত হয়েছে এই মুহূর্তে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামীতে আরও পরিস্থিতি এমন হবে নাহ।”

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যারা এসব হামলা করেছে তাদের শায়েস্তা করেছে তাদের গ্রেপ্তার কিংবা ধরার যোগ্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে অচিরেই তারা গ্রেপ্তার হবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো আছে, আগামীতেও ভালো থাকবে।”

তবে কিছুটা সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কিন্তু এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাফিলতি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযানের ক্ষেত্রে তারা যদি তাদের পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করে তাহলে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চড়াও হতে পারে নাহ। যেকোনো অভিযানের যাওয়ার আগে তাদের অবশ্যই ড্রেসকোড মেইনটেইন করা উচিত বলে আমি মনে করি। এ নিয়ে সরকার থেকেও বারবার বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সচেতন না হয়, এভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে তা চিন্তায় বিষয়। ড্রেসকোড না থাকায় অনেকসময় অপরাধীরা প্রতিপক্ষ মনে করে হামলার ঘটনা ঘটায়। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার করা উচিত।”

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “র‌্যাবের উপর হামলা সাধারণ জনগণকেই নয়, অসাধারণ জনগণকেও ভয়াবহ আতঙ্কিত করে। মাদক, কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম্যে মানুষ এমনিতেই দিশাহীন। মানুষ বিপদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আশ্রয় নেয়। যখন সেই আইনশঙ্খলা বাহিনীই খোদ হামলার শিকার হয়, তখন মানুষ নিজেকে কেবল অসহায়ভাবে না,  চুপ থাকারও নীতি গ্রহণ করে এবং আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে, অপরাধ থেকে রক্ষা পাবার জন্য নিজেই অপরাধী হয়ে উঠে। হামলাকারীদের এবং তাদের শেল্টারদাতাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয় প্রশাসনের কাছে অজানা নয়। অনতিবিলম্বে র‌্যাব উপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা হামলা করেছে কেবল তাদের নয়, যাদের শেল্টারে পাড়া মহল্লায় মাদক বিক্রি রমরমা তাদের গ্রেপ্তার এবং বিচার জরুরি।”

সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বশেষ ৫ মে শহরের বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে এবং মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে র‌্যাব সদস্যরা হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।  

একইদিন রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া একাধিক মামলার আসামি শামীমকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলার পুরান বন্দর এলাকায় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা পুরো জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে এক কনস্টেবলের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।  

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে আশাবাদ ও উদ্বেগ দুটোই রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সবাই।