News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৮ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

আইনের শাসন ভাঙেনি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম আইনের শাসন ভাঙেনি

নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

এ প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডাভোকট সরকার হুমায়ূন কবির ও যুগ্ম সম্পাদক একেএম ওমর ফারুক নয়ন কথা বলেছেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তারা তুলে ধরেছেন আইনজীবী ও সামগ্রিক পরিস্থিতি।

সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, আইনের শাসন এত সহজে ভেঙে পড়ে না। এর থেকেও বড় ঘটনা অতীতে ঘটেছে, কিন্তু আইনের শাসন বহাল রয়েছে। দেশে আইন না থাকলে শাসন ব্যবস্থাই টিকে থাকত না। এসব ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে আসছে।

তিনি বলেন, আইন যত স্বচ্ছ হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তা তত বাড়ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী বা সংগঠনের ইন্ধন থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। তাঁর ভাষ্য, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর নিষিদ্ধ হওয়া একটি রাজনৈতিক দলের কিছু গুপ্ত কর্মী সমাজকে অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত নমনীয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলার উপর কড়া নজর রাখছে। যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তারা দ্রুত আইনের আওতায় আসবে।

অতীতের বিচারহীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। গুম, খুন, ছিনতাই, দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ তখন ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় ব্যবস্থা নিতে চাইলেও সে সুযোগ পায়নি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে, তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বচ্ছ হয়ে উঠছে।

আইনজীবী সমাজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটলে আইনজীবীরা কখনো ঘরে বসে থাকে না। অতীতেও আমরা তা প্রমাণ করেছি।

তিনি উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় আইনজীবীরা রাস্তায় নেমে হরতাল, প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করেছেন। সেই সময় শহরের একটি দোকানও খোলা ছিল না। হাইকোর্টসহ সারাদেশের আইনজীবীরা আন্দোলনে অংশ নেন। আড়াই মাস ধরে নিয়মিত কর্মসূচির ফলে শেষ পর্যন্ত ওই হত্যাকা-ের বিচার নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন, আইনজীবীরা যখন রাস্তায় নামে, তখন তাদের মোকাবেলা করার শক্তি কারো থাকে না।

শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও আইনজীবী সমাজ প্রয়োজন হলে কঠোর আন্দোলনে নামবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

অপরদিকে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে কিছু ঘটনা ঘটেছে এটি নিয়ে আমরা বিস্মিত ও ব্যথিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর মাদক বিক্রেতাদের চক্রটি হামলা করেছে। এরকম ঘটনার মাধ্যমে তারা প্রশাসনকে বার্তা দিচ্ছে যে আমরা শক্তিশালী।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে মাদক বেড়েছে। প্রশাসনের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। রূপগঞ্জেও একইরকম ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। অন্যথায় এসব হামলাকারী, দুষ্কৃতকারীদের থামানো সম্ভব হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ। দেশকে উন্নত, মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ করতে তিনি প্রয়োজনীয় সবকিছু করছেন। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমাদেরও একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। এসবের বিরুদ্ধে যেকোনো মামলায় আমি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে লড়বো।

নয়ন বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে বিচার বিভাগকে অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তবে এখন সেই সময় নেই। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের অধিকার ও বিচারপ্রাপ্তির অধিকারের প্রতি জোর দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি অনাকাঙ্খিত প্রয়োজনে মিটিং, সেমিনার করে সমাজকে, দেশকে জাগাতে হবে। নারায়ণগঞ্জকে সুন্দরভাবে গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ রয়েছে। মাদকসেবীরা অনেকসময় নিজেরাই শক্তিশালী চক্র গড়ে তোলে, মাফিয়ায় পরিণত হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারকে আরো কঠোর হতে হবে। সকল শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিকে নিয়ে সভা করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা আমাদের কাছে এলে সর্বোচ্চ আইনী সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত।