News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

রিয়াদ চৌধুরীর আন্দোলনের সেই ছবি ছিল প্রদর্শনীতে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম রিয়াদ চৌধুরীর আন্দোলনের সেই ছবি ছিল প্রদর্শনীতে

১৯৫২ থেকে ২০২৪ এর আন্দোলনের বিভিন্ন আলোচিত ছবি নিয়ে তরুণ শিল্পীদের আকা চিত্রকর্ম প্রদর্শনে স্থান পেয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর একটি ছবি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলনের ছবিটি বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৪ সাল হতে বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা। আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে তিনি ছিলেন এক অগ্রগামী সৈনিক। রাজনীতি করতে গিয়ে একের এক মামলা, গ্রেপ্তার হলেও বিএনপিকে ত্যাগ করেনি। নিজের মেধা যোগ্যতা আর রাজনৈতিক ত্যাগে বলীয়ান হয়ে ফতুল্লায় নিজের অবস্থান দিন দিন সুসংহত করে চলেছেন।

বুড়িগঙ্গার তীরে শিল্পাঞ্চল খ্যাত ফতুল্লায় চৌধুরী পরিবার পারিবারিক ভাবেই ঐতিহ্যবাহী। জমিদার আল্লাহ বক্স থেকে শুরু করে জমিদার খোদা বক্স, তার ছেলে কাদির বক্স চৌধুরী, তার ছেলে ওয়াহেদ বক্স চৌধুরী। জমিদার শাসন ব্যবস্থায় তাদের নাম ছিল বেশ সমাদৃত।

পরের প্রজন্ম আবদুল বাছেদ চৌধুরীর ছেলে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তাঁরা সকলেই চৌধুরী বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রেখে এলাকার উন্নয়ন থেকে শুরু করে নানা কর্মকান্ডে সরব ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের আমলে বাছেদ চৌধুরী ছিলেন গ্রাম সরকার প্রধান।

বাড়ির পাশে ১৯৯৪ সালে ফতুল্লার ঐতিহাসিক ডিআইটি মাঠে তৎসময়ের প্রথানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশের পরেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়ান রিয়াদ।

এর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ১৯৯৬ সালে ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক

১৯৯৭ সালে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়কের মত গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে যখন নিজেকে বিলিয়ে দেন তখন পুরস্কারস্বরুপ ১৯৯৯ সালে হয়ে যান ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সভাপতি।

এছাড় জাকির খান ও মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক, মোশারফ ও জাহিদ হাসান রোজেলের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কমিটিতে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্র জীবন শেষে সোনালী এ ফসলকে দেওয়া হয় বিএনপির আরেক সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব।

২০১৩ সালে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক হন তিনি। এছাড়া জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান মিলে রিয়াদ চৌধুরীর ।

রাজনীতির গতিপথে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠা রিয়াদ পরে জেলা বিএনপিার প্রচার সম্পাদক, আহবায়ক কমিটির সদস্য এর মত দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক ত্যাগ আর সাহসিকতার কারণে সবশেষ ফতুল্লা থানা বিএনপির মত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হন ছাত্রদল থেকে বেড়ে আসা এ নেতা।

১৯৯৪ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ২২টি মামলার আসামী হয়েছেন তিনি। গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬ বার। কারাভোগ করেছেন অন্তত ৮ মাস।

এসব মামলার মধ্যে একটি আলোচিত ছিল চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনাটি। ২০০১ সালের ১৬ জুন ওই বোমা হামলায় ২০ জনের মৃত্যু ঘটে। মামলায় রিয়াদ চৌধুরীকে ৪ নাম্বার আসামী করা হয়েছিল ।

তখন ঘটে এক নির্মম ঘটনা। শামীম ওসমানের লোকজন ফতুল্লায় রিয়াদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে ভাঙচুর গুলি বর্ষণ করে।

রিয়াদ চৌধুরীর মা রেহেনা বেগম ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। তখন তাকেও স্কুল থেকে বের করে দেন ওসমান বাহিনী।