গত তিন মাস যাবৎ নারায়ণগঞ্জের শহর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও সোনারগাঁ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল ছিলো জোরেসরে। তাদের নেতাদের ফেসবুক পোস্টের পর প্রশাসন ও সরকারী দলীয় নেতাকর্মীদের অস্থিরতা দেখা যায়। এই নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জেলা প্রশাসনের সভাতে প্রশ্নবিদ্ধ হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তপৎরতা শুরু হয়।
বন্দরের শীতলক্ষা সেতু সামনে আজমেরি ওসমানের অনুসারীরা মিছিল বের করলে বিশেষ অভিযান চালায় বন্দর থানা পুলিশ। দুই দিনে ২০ জনের বেশি অনুসারী গ্রেপ্তারের পর ঝটিকা মিছিলে ধ্বস নেমেছে। একই সাথে ফেসবুকে নেতাদের তৎপরতা কমতে দেখা গেছে।
৩০ জুলাই থেকে নারায়ণগঞ্জের চারটি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও নাশকতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ফতুল্লা, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
এদিকে ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঝটিকা মিছিল করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ভোরের আলো ফুটতেই সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর নয়াবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল হয় বলে জানান স্থানীয়রা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি পালিত হয়। তবে কয়েক মিনিটের ঝটিকা মিছিল করেই পালিয়ে যান সবাই। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের এই ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি থেকে দেখা যায়, একদল নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। ওই মিছিলে স্লোগান দেয়া হয়- 'শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’, ‘শেখ হাসিনা ফিরবে আবার বীরের বেশে'। মিছিলকারীদের অধিকাংশই মুখে মাস্ক পড়া ছিলেন।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মফিজুর রহমান বলেন, ঝটিকা মিছিল করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ভোরের দিকে হওয়ায় সে সময় রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা ছিল। পুলিশ মিছিলকারীদের আটক করতে তৎপর রয়েছে।
অন্যদিকে ৫ আগষ্টের আগে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, একদিনে জেলার সাতটি থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। সংগঠনটির ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জের প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি স্থানে তল্লাশিচৌকি (চেকপোস্ট) বসিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে সাইনবোর্ড এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, ফতুল্লা, শহরের সৈয়দপুর, সোনারগাঁ ও কাঁচপুরসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।



































আপনার মতামত লিখুন :