নারায়ণগঞ্জের একটি ফেইসবুক গ্রুপে এক ব্যক্তি সাহায্য চেয়ে পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লিখেন, ‘আমাদের ৪ আসনের এমপির সাথে কেউ কথা বলিয়ে দিতে পারবেন? অনেক উপকার হতো।’ তার সেই পোস্ট প্রকাশের মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন খোদ নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি নিজেই।
প্রকাশিত সেই পোস্টের কমেন্টে জবাব দিয়ে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন লিখেন, ‘মঙ্গলবার সকালে উপজেলায় আসবেন। কোন মাধ্যম লাগবে না ভাই। প্রতি মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত উপজেলায় পাবেন। শনিবার সকাল ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত চাষাঢ়া সমবায় ব্যাংক ভবনের ৯ তলায় পাবেন। ধন্যবাদ।’
একজন সংসদ সদস্যের এমন তড়িৎ সাড়াদান এবং খোদ নিজ থেকে এগিয়ে আসার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে ফতুল্লাজুড়ে। বিগত সময়ে এমপিদের নাগাল পাওয়া ছিলো আকাশের চাঁদ হাতে পাবার সমান। কিন্তু সেখানে সংসদ সদস্যকে জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া আল আমিন তার কথা রাখছেন। যে কোন ব্যক্তি চাইলেই এখন সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন এমপির সাথে এমন বাস্তবতা তৈরি করে দিয়েছেন এই তরুণ সংসদ সদস্য।
তবে কেবল ফতুল্লাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই ঘটনা। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের তরুণ এক্টিভিস্টদের মাঝেও। সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির নামে একজন এক্টিভিস্টি বিষয়টির প্রশংসা করে লিখেন। ‘একজন একটা গ্রুপে পোস্ট করার সাথে সাথে খোদ সেই এলাকার এমপি তার পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করেছেন। বলে দিয়েছেন, তার কাছে আসতে কোন মাধ্যম লাগবে না। সরাসরি চলে আসতে পারবেন চাইলেই। জুলাই আমাদের কি দিয়েছে তার একটি উদাহরণ এমপি আল আমিন। যেখানে একজন এমপি নিজে গিয়ে বলছে তার সাথে কিভাবে কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি দেখা করা যাবে। কখন কোথায় বসেন তাও জানিয়ে দিয়েছেন। আবদুল্লাহ আল আমিন নিরেট ভদ্রলোক। একজন অসাধারণ জনপ্রতিনিধিও বটে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের দ্বারা বরাবরই নতুনত্ব এবং অসাধারণ চিত্র উঠে আসে। রাজনীতিতেও তার ব্যতিক্রম নয়। এনসিপির এমপি ও নেতারা নানান কারনে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আবদুল্লাহ আল আমিনও তার ব্যতিক্রম নন। প্রতি শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকার মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় এবং মানুষের সামনে জবাবদিহি করার এই বিষয়টি একেবারেই নতুন। সেই সাথে প্রতি সপ্তাহে উপজেলায় বসে অফিস করা, নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষকে সময় দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে আছেন তিনি। তরুণ এই এমপি রীতিমত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন পুরো জেলায়। এর নেপথ্যে রয়েছে তার কাজ এবং উদ্যোগ। তার মাধ্যমে বাকিরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন কিভাবে জনপ্রতিনিধি হয়েও সাধারণ মানুষের সাথে আত্মীক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।



































আপনার মতামত লিখুন :