News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিজয়ের সাক্ষী নারায়ণগঞ্জ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম বিজয়ের সাক্ষী নারায়ণগঞ্জ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জজুড়ে ছিল চরম উত্তেজনা। আগের দিনের সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, লিংক রোড ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী, বিএনপি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকার “লং মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন দিক থেকে চাষাঢ়ায় জড়ো হতে থাকেন।  

সকাল ১০টার পর চাষাঢ়া গোলচত্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টিয়ারশেল, গুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একই সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। সকালের সংঘর্ষে যুবদল নেতা স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এছাড়া ঢাকায় যাওয়ার পথে সাবেক ছাত্রদল নেতা আমানতের মৃত্যুর খবরও সেদিন ছড়িয়ে পড়ে, যা আন্দোলনকারীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে শুরু করে। পুলিশ ধীরে ধীরে চাষাঢ়া এলাকা ছেড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের প্রবল চাপে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরাও পিছু হটতে বাধ্য হন। সেনাপ্রধানের ভাষণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয় বিজয়োল্লাস। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে সংঘর্ষ চলছিল, সেই চাষাঢ়া গোলচত্বর মুহূর্তেই পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জাতীয় পতাকা হাতে মানুষ আনন্দ মিছিল বের করে, স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।

বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, প্রেসক্লাব এলাকা, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল এবং স্লোগান চলে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ আন্দোলনের পর এটিই ছিল তাদের “বিজয়ের দিন”। তবে বিকেল থেকেই শামীম ওসমানের বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন থানায় লুটপাট চালানো হয়। এর ফলে অনেক অস্ত্র লুট হয় সেদিন। যা এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। ১৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট এসে জেলার রাজপথের নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ বদলে যায়। 

রাজনৈতিক কার্যালয় ও স্থাপনায় হামলা: আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। চাষাড়ায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব, পুলিশ বক্স এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। শামীম ওসমান ও তাঁর বড় ভাই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। বিকেলে শহরের জামতলা এলাকায় শামীম ওসমানের ডুপ্লেক্স বাড়িতে এবং উত্তর চাষাঢ়া এলাকায় সেলিম ওসমানের তিনতলা বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা। এই দুই রাজনৈতিক নেতার বাড়ি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

বিকালে পাইকপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র আবদুল করিম বাবুর অফিসে ও বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে আবার ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পৌর পাঠাগারে হামলা চালিয়ে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়েছে। শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সন্ধ্যায় রূপায়ন টাউনের পঞ্চম তলায় শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের জেড এন করপোরেশনের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়। এ ছাড়া পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে বিভিন্ন যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর করেন বিক্ষোভকারীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় যেমন আড়াইহাজার থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়া থমকে যায়।