News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জের অর্ধশত বছরের পাইকারী ফলের আড়ৎ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম নারায়ণগঞ্জের অর্ধশত বছরের পাইকারী ফলের আড়ৎ

প্রতিদিন ভোর থেকেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। ফলবোঝাই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ট্রলার, ছোট ট্রলি, অটোরিকশা আর ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট পুরো এলাকা। প্রত্যহ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মৌসুমী দেশী ফল। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার পাইকারদের আনাগোনায় মুখরিত হচ্ছে। মৌসুমী ফলের সমাহারে জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের চারারগোপে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা অর্ধশত বছরের পুরনো ফলের বাজার।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরু সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বসেন আড়ৎদাররা। কারও সামনে সাজানো থাকে আম, কারো ড্রাগন, কারো আনারস, কলা, কাঠাল, ডাব, আখসহ দেশীয় নানা ধরনের ফল। নদীপথে ও সড়কপথে বেপারীরা ফল নিয়ে আসেন। ভোর ছয়টা থেকে পাইকারদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অনেকে আসেন। সময় যত গড়াতে থাকে কয়েক হাজার ক্রেতা–বিক্রেতার উপস্থিতিতে জমে ওঠে পাইকারি ফল বেচাকেনা। আড়তদার, বেপারী ও পাইকারি ক্রেতা, খুচরা ব্যবসায়ী মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষের পদচারনায় দিনব্যাপী মুখর থাকে আড়ৎ এলাকা।

অর্ধশত বছরের বেশী সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার চারারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এই ফলের আড়ৎ। এখানে বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত ৬০টির মতো ফলের আড়ৎ রয়েছে। তবে আড়তের আশেপাশেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ফলের দোকান। এসব ফলের আড়তে সারা বছরই দেশিয় নানা ধরনের ফল বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়কপথে ও নদীপথে মৌসুমী দেশীয় ফল নিয়ে আসেন বেপারীরা। যা আড়তদাররা কমিশনের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকেন।

পাইকাররা জানান, তারা বিভিন্ন স্থান থেকে এই বাজারে ফল কিনতে আসেন। এই বাজার ফ্রেশ পণ্য পাওয়া যায়। এই বাজারে কোন ধরনের ফরমালিন মিশ্রিত হয়না। এখান থেকে ফল কিনে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাইকারী ও খুচরো বিক্রি করে থাকেন। তারা মৌসুম ভেদে একেক সময় একেক ধরনের ফল কিনে নিয়ে যান। 

আড়তদাররা জানান, এই বাজার অর্ধশত বছরের বেশী সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এই বাজারের মৌসুম ভেদে বিভিন্ন ধরনের দেশী ফল বিক্রি হয়ে থাকে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা ও রাজধানী ঢাকা থেকেও পাইকাররা এই বাজারে আসছেন।এই আড়তে মূলত আম, লিচু, তরমুজের সিজনে বেচাকেনা অনেক বেশী হয়। মূলত এসময় প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মতো ফল বিক্রি হয়। এই আড়তে কোন ধরনের ফরমালিন মিশ্রিত হয়না।  

নারায়ণগঞ্জ জেলা ফল আড়ৎদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবির ফারুক বলেন, প্রতিদিন এই ফলের আড়তে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। দূর দূরান্ত থেকে আসা বেপারীদের জন্য থাকা খাওয়াসহ নানা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। আড়তদার, বেপারী ও পাইকারদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।