১৪ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার বিকাল পাঁচটায় বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত 'জুলাই ২৪ অভ্যুত্থানের স্বরূপ ও বাস্তবতা' শীর্ষক সেমিনার নারায়ণগঞ্জ আলী আহমেদ চুনকা পাঠাগার ও নগর মিলনায়তনের পরীক্ষণ হলে (৫ম তলা) অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রগতি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শ. ম কামাল হোসেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রগতি লেখক সংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন। সঞ্চালনা করেন প্রগতি লেখক সংঘ নাঃগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস।
সেমিনারে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন প্রগতি লেখক সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবি দীপঙ্কর গৌতম, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবালুল হক খান, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সংগঠক কবি রঘু অভিজিৎ রায়, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও প্রগতি লেখক সংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্ত, সমমনা-এর সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী জেলা কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দীপু, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা আক্তার, প্রগতি লেখক সংঘ এর সদস্য নির্মল কুমার সাহা, সমমনা’র সংগঠক কবি সেলিম ভূইয়া, প্রগতি লেখক সংঘ জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু ও প্রগতি লেখক সংঘ জেলা শাখার সদস্য শুক্কুর মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
সেমিনারে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই ২০২৪ এর অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিকল্পনা থেকে নয়। অভ্যুত্থানের কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা ছিল না। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণ থেকে বেশ কিছু পরিমানে বিচ্ছিন্ন ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোন পরিকল্পনা ছিল না। জনজীবনে ছিল গভীর সংকট। লুটেরা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণ দীর্ঘদিন নানাভাবে সংগ্রামরত ছিল। জনগণের দীর্ঘদিনের ধুমায়িতো বিক্ষোভ ছাত্রদের কোটা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিল। ছাত্রদের আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী ভূমিকা শ্রমিক কৃষক ও মধ্যবিত্ত জনগণ মেনে নিতে পারেনি, তাই তারা ছাত্রদেরকে অকাতরে সমর্থন করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির দিক থেকে লক্ষ্য উদ্দেশ্য বিহীন হলেও ছাত্রদের এই আন্দোলন সরকার পতনের দিকেই অগ্রসর হয়েছে। ছাত্রদের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের অনমনীয় ও বেপরোয়া মনোভাবের ফলে হাজারে হাজারে সাধারণ মানুষ ছাত্রদের পক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের একটি সাধারণ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছে। যেহেতু প্রথম থেকেই এই আন্দোলনের রাজনৈতিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা ছিলনা, তাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থা আগের মতই বহাল আছে।
অতীতের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানগুলো যেমন সমাজ ব্যবস্থার কোন মৌলিক পরিবর্তন করতে পারেনি, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানও সমাজের মৌলিক কোন পরিবর্তন করতে পারেনি, ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে মাত্র। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা আগের মতই রয়ে গেছে। বরং এই সুযোগে চরম দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি আরো বেশি মাত্রায় সংগঠিত হতে পেরেছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে সমাজ কিছুটা হলেও পিছনের দিকে গেছে। এটাও ঠিক ২০২৪ এর অভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল। এর জন্য শেখ হাসিনার সরকার নিজেই দায়ী।
অভ্যুত্থান সফল হলেও জনগণের আকাক্সক্ষা মোটেও পূরণ হয়নি। জনগণ হতাশ হয়েছে। তবুও বলবো একটি সংগ্রাম বা অভ্যুত্থানের সফলতা ব্যর্থতার মধ্যে জনগণের সংগ্রাম থেমে থাকে না। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তা আগামী দিনের সংগ্রামের পাথেয় হয়ে থাকবে। মানুষের ইতিহাস সংযোজন বিয়োজনের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজে সবসময়ই শ্রেণিসংগ্রাম অব্যাহত থাকে। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সমাজ বদলাতে থাকে। এই শ্রেণিসংগ্রামই সমাজ বদলের চালিকাশক্তি। এখনো জনগণের সংগ্রাম অব্যাহত আছে, সে সংগ্রাম চলছে প্রতিদিন।
এবারে যেহেতু মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, তাই ভবিষ্যতে তারা নতুন উদ্যমে আরেকটা অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত হবে।








































আপনার মতামত লিখুন :