News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সিফাতের প্রশ্রয়দাতা নিয়ে গুঞ্জন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:০২ পিএম সিফাতের প্রশ্রয়দাতা নিয়ে গুঞ্জন

বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যার প্রধান আসামি শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা সহ ১১জন গ্রেপ্তার হলেও সিফাতকে নিয়ে বন্দরে নতুন করে আলোচনার জন্ম নিয়েছে। কেউ কেউ শেখ সিফাতকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বলছেন, কেউ আবার তাকে খান মাসুদের কর্মী বলছেন। শেখ সিফাতের উপর আক্রোশ থেকে একজন সংবাদকর্মীর বাসা বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। ওই সংবাদকর্মী সম্পর্কে শেখ সিফাতের আপন চাচা।

বন্দর জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শেখ সিফাত যদি আওয়ামী লীগের কর্মী বা খান মাসুদের কর্মী হয়ে থাকে তাহলে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বন্দরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তারা ফেরত আসতে পারেনি। কেউ কেউ দুবাইতে চলে গেছেন কেউ আবার দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাহলে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে গত ২ বছর শেখ সিফাত বন্দরে কিভাবে অবস্থান করলো। কে তাকে শেল্টার দিলো। কার ছায়ায় থেকে শেখ সিফাত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলো।

কে সেই মাস্টার মাইন্ড যে শেখ সিফাতের মত একজন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে গত ২ বছরে তাকে আরো বড় সন্ত্রাসী বানিয়ে তুলতো।

আবার যে শেখ সিফাতকে পুলিশের এলিট ফোর্স পর্যন্ত খুঁজে পেতো না সেই শেখ সিফাত একটি হত্যাকান্ড ঘটিয়ে বন্দরেই অবস্থান করছিলো মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়।

বন্দর জুড়ে গুঞ্জন চলছে প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরও যেভাবে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো হয়তো ভেবেছিলো এই হত্যাকান্ডের পরও হয়তো সময়ের সাথে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কিন্তু হত্যাকা-ের পর ইসলামী আন্দোলনের নেতারা সহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায়। ফলে হয়তো অন্তরালে থেকে সে মাস্টারমাইন্ড সিফাতকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে আসছিলো সে হয়তো পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সিফাতের উপর থেকে ছায়া তুলে নেওয়াতেই সিফাত ও বাহিনীর বাহিনীর সদস্যদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

বন্দরে সিফাতকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া সেই মাস্টারমাইন্ডকে খুঁজে বের করার দাবি উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ গত দুই বছর শেখ সিফাতকে যে বা যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে দুর্ধর্ষ করে তুলেছে তাদেরকেও খুঁজে বের করতে হবে। বুলবুল হত্যার তদন্তের পাশাপাশি এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত।

উল্লেখ্য, বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতা শেখ সিফাত সহ ১১জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বন্দর থানা পুলিশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট হত্যাকান্ডের পরপরই স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বিক্ষুব্ধদের শান্ত করতে বক্তব্য দিয়েছিলেন আমরা আমাদের সকল ফোর্স একত্রিত করেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার না করতে পারবো ততক্ষণ আমাদের অভিযান চলছে আমরা পুরো এলাকা তছনছ করে ফেলবো।

হত্যার ঘটনার রাতেই নবীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শেখ সিফাত ও তার সহযোগিদের।

অথচ এই শেখ সিফাত গত ২ বছর ধরে বন্দর এলাকায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে গিয়েছে। মাদক ব্যবসা ছিনতাই থেকে শুরু করে পুলিশকে কুপিয়ে পুলিশের অস্ত্র লুটের মত ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছে সিফাত। অথচ সিফাতকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সিফাতের ব্যাপারে বন্দর থানার বিদায়ী ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন গত ১১ জুন সময়ের নারায়ণগঞ্জকে জানিয়ে ছিলেন আমরা সকলভাবে সিফাতকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা সিফাতের পেছনে লেগে আছি। আমরা কোনো প্রকার ডিভাইজের মাধ্যমেও তাকে খুঁজে পাচ্ছিনা। এমনকি আমাদের এলিট ফোর্স তাকে খুঁজে পাচ্ছেনা।

পুলিশের এমন তৎপরতার পরও সিফাত কিভাবে বন্দরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওই সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সিফাত নিজে করছে নাকি তার গ্রুপের পোলাপান করছে এটা নিশ্চিত হতে হবে। আপনাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

সিফাতকে গ্রেপ্তারে বন্দর থানা পুলিশ ব্যর্থ হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাল্টা প্রশ্ন করলে তো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয়রা জানান, একটি হত্যাকান্ডের পর বন্দর মানুষ যখন একত্রিত হয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সিফাতের গ্রেপ্তারের দাবিতে। থানা ঘেরাও করে, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় তখন পুলিশ তৎপর হয়ে সিফাতকে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করে ফেলতে পারে। অথচ এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সিফাতকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা, সে কোনো প্রকার ডিভাইজ ব্যবহার করে না, এমনকি এলিট ফোর্সও তার সন্ধান পাচ্ছেনা। তাহলে এখন মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে কিভাবে সম্ভব হলো গ্রেপ্তার করা। হত্যাকা-ের মত এমন ঘটনা ঘটিয়েও সিফাত বন্দরে অবস্থান করছিলো, এতে করে বুঝা যায় শেখ সিফাতকে কেউ অন্তরালে থেকে রাজনৈতিক ছায়া দিচ্ছিলো অথবা সিফাতকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অনিহার কারণেই এতোদিন এতো অপকর্ম করেও সিফাত গ্রেপ্তার হয়নি। অথচ সিফাতকে যদি আগেই গ্রেপ্তার করা হতো তাহলে হয়তো আজকে বুলবুলকে এভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হতে হতো না। এই হত্যাকান্ডের দায় কোনো ভাবেই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশ প্রশাসনের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, পুলিশের কাছে সিফাত ছিল পলাতক। পুলিশের ভাষ্য ছিলো তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এর আগে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে নাজমা বেগম নামে এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে সিফাত ও তাঁর সহযোগিরা।

এর আগে বন্দরে দিনে দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তার কাছে থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা । সেখানেও উঠে এসেছিলো এই সন্ত্রাসী সিফাতের নাম।

এ ঘটনায় সিফাতের নাম বলায় সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবুও যেন বন্দর থানা পুলিশের টনক নড়ছে না।

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত চৌধুরীবাগি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় খবর পেয়ে তদন্তের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তাদের শর্টগান ছিনিয়ে নেয় সিফাত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা।

পরে ৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ভোর সোয়া ৬টার দিকে একই এলাকার একটি গাছের নিচ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় বন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন আহত হন। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী।